শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


—: শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য :—

নবম অধ্যায় : শ্রীমধ্যদ্বীপ ও নৈমিষ বর্ণন

(শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত)

 

জয় গৌরাচন্দ্র, জয় নিত্যানন্দ,
জয় জয় গদাধর ।
শ্রীবাসাদি জয়, জয় ভক্তালয়,
নবদ্বীপ ধামবর ॥
নিশি অবসানে, মত্ত গৌরগাণে,
চলিলেন নিত্যানন্দ ।
সঙ্গে ভক্তগণ, প্রেমেতে মগন,
বিস্তারিয়া পরানন্দ ॥
মধ্যদ্বীপে আসি, বলে হাঁসি হাঁসি,
এইত মাজিদা গ্রাম ।
হেথা সপ্তঋষি, ভজি গৌরশশী,
করিলেন সুবিশ্রাম ॥
পিতৃ সন্নিধানে, গৌর গুণ গানে,
সত্যযুগে ঋষিগণ ।
হইয়া মগন, যাচিল তখন,
গৌর প্রেম নিত্যধন ॥
ব্রহ্মা চতুর্ম্মুখ, পেয়ে বড় সুখ,
সপ্তপুত্রে বলে তবে ।
নবদ্বীপে যাও, গৌরণ্ডণ গাও,
অনায়াসে প্রেম হবে ॥
ধাম কৃপা সার, লাভ হয় যার,
তার হয় সাধুসঙ্গ ।
সাধু সঙ্গে ভজে, কৃষ্ণপ্রেমে মজে,
এইত পরম রঙ্গ ॥
নবদ্বীপে রতি, লভে যার মতি,
সেই পায় ব্রজ বাস ।
অপ্রাকৃত ধাম, গৌরহরি নাম,
কেবল সাধুর আশ ॥
পিতৃ উপদেশ, বুঝিয়া বিশেষ,
সপ্তঋষি আসি তবে ।
হরি বলি নাচে, গৌর প্রেমে যাচে,
গায় গুণ উচ্চরবে ॥
বলে গৌর হরি, অনুগ্রহ করি,
দেখা দাও একবার ।
নানা ধর্ম্ম সাধি, হৈনু অপরাধী,
ভক্তি এবে কৈনু সার ॥
ভক্তি নিষ্ঠা করি, ভজি গৌরহরি,
ঋষিগণ করে তপ ।
কিছু নাহি খায়, নিদ্রা নাহি যায়,
গৌরনাম করে জপ ॥
মধ্যাহ্ণ সময়, গৌর দয়াময়,
দেখা দিল ঋষিগণে ।
শতসূর্য্য প্রভা, যোগি মনোলোভা,
শুদ্ধ পঞ্চ তত্ত্ব সনে ॥
কিবা সেই রূপ, অতি অপরূপ,
সুবর্ণ সুন্দর মুর্ত্তি ।
গলে বনমালা, দিক করে আলা,
তাহে আভরণ স্ফূর্ত্তি ॥
চাহনি সুন্দর, চিকুর চাঁচর,
চন্দনের বিন্দু ভালে ।
ত্রিকচ্ছবসন, সূত্র সুশোভন,
শোভিত মল্লিকামালে ॥
সেরূপ দেখিয়া, মোহিত হইয়া,
সবে করে নিবেদন ।
তোমার চরণ, লইনু শরণ,
দেহ পদে ভক্তি ধন ॥
শুনি গৌরহরি, বলে দয়া করি,
শুন ওহে ঋষিগণ ।
ছাড়ি অভিলাষ, জ্ঞানকর্ম্ম পাশ,
কর কৃষ্ণ আলোচন ॥
স্বল্প দিনান্তরে, নদীয়া নগরে,
হইবে প্রকট লীলা ।
তুমি সবে তবে, দর্শন করিবে,
নাম সঙ্কীর্ত্তন খেলা ॥
একথা এখন, রাখহ গোপন,
আমার বচন ধর ।
শ্রীকুমার হট্টে, নিজকৃত ঘট্টে,
কৃষ্ণের ভজন কর ॥
গৌর অদর্শনে, সপ্তর্ষি তখনে,
কুমার হট্টেতে যায় ।
এস্থানে এখন, কর দরশন,
সপ্তটীলা শোভাপায় ॥
সপ্তর্ষি আকাশে, যেমত প্রকাশে,
সপ্তটীলা তার সম ।
হেথাবাস করি, পায় গৌর হরি,
না সাধি নিয়ম যম ॥
ইহার দক্ষিণে, দেখহ নয়নে,
আছে এক জল ধার ।
এইত গোমতী, সুপবিত্র অতি,
নৈমিষ কানন আর ॥
পুরা কল্পে কলি, হৈলে মহাবলী,
শৌনকাদি ঋষিগণ ।
সুতের শ্রীমুখে, শুনে সবে সুখে,
গৌর ভাগবত ধন ॥
হেথা যেইজন, পুরাণ পঠন,
করয় কার্ত্তিক মাসে ।
সর্ব্বক্লেশ ত্যজে, গৌর রঙ্গে মজে,
ব্রজ লভে অনায়াসে ॥
কভু পঞ্চানন, ছাড়ি বৃষাসন,
শ্রীহংস বাহন হয়ে ।
শুনিল পুরাণ, গৌর গুণগান,
আপন ভকত লয়ে ॥
গাইয়া গাইয়া, নাচিয়া নাচিয়া,
শৈব যত কাশীবাসী ।
পঞ্চাননে ঘেরি বলি গৌরহরি,
পুষ্প ফেলে রাশিরাশি ॥
নিতাই বচন, শুনিয়া তখন,
জীবের উথলে ভাব ।
গড়াগড়ি যায়, ধৈরয না পায়,
আস্বাদে ধাম প্রভাব ॥
সেদিন যাপন, করে ভক্তগণ,
নিতাই চাঁদের সনে ।
পরদিন সবে, চলিলেন তবে,
শ্রীপুষ্কর দরশনে ॥
জাহ্ণবা নিতাই, ভজন সদাই,
যাহার অন্তরে জাগে ।
নদীয়া মহিমা, ভক্ত মধুরিমা,
গাইছে সেজন রাগে ॥

 


 

← Main page-এ ফিরে
← গ্রন্থাগারে ফিরে

 


শ্রীনবদ্বীপধাম
মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


এইগ্রন্থশিরোমণি শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এবং তাঁর শ্রীচরণের তৃপ্তির জন্য তাঁর অহৈতুক কৃপায় শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠ হইতে প্রকাশিত হয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শুভার্বিভাব তিথিতে শ্রীগৌরাব্দ ৫৩৪, বঙ্গাব্দ ১৪২৬, খৃষ্টাব্দ মার্চ্চ ২০২০ ।


সূচীপত্র:

শ্রীগৌরধাম ও শ্রীভক্তিবিনোদ

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য
(১) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন
(২) শ্রীশ্রীগৌড়মণ্ডল ও শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের বাহ্যস্বরূপ ও পরিমাণ
(৩) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি
(৪) শ্রীজীবের আগমন ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপতত্ত্ব বলেন
(৫) শ্রীমায়াপুর ও শ্রীঅন্তর্দ্বীপের কথা
(৬) শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন
(৭) শ্রীসুবর্ণবিহার ও শ্রীদেবপল্লী বর্ণন
(৮) শ্রীহরিহরক্ষেত্র, শ্রীমহাবারাণসী ও শ্রীশ্রীগোদ্রুমদ্বীপ বর্ণন
(৯) শ্রীমধ্যদ্বীপ ও নৈমিষ বর্ণন
(১০) শ্রীব্রাহ্মণপুষ্কর, শ্রীউচ্চহট্টাদি দর্শন ও পরিক্রমা-ক্রম বর্ণন
(১১) শ্রীশ্রীকোলদ্বীপ, শ্রীসমুদ্রগড়, শ্রীচম্পাহট্ট ও শ্রীজয়দেব-কথা বর্ণনা
(১২) শ্রীশ্রীঋতুদ্বীপ ও শ্রীরাধাকুণ্ড বর্ণন

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভজনকুটির (স্বানন্দ-সুখদা-কুঞ্জ)
শ্রীনৃসিংহপল্লী
শ্রীকোলদ্বীপ


বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥