শ্রীপুরীধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


শ্রীগোপাল গুরুর কথা

 

মহাপ্রভু গম্ভীরায় যেখানে থাকতেন, আজ সে মন্দিরের নাম হচ্ছে শ্রীরাধাকান্ত মঠ । মহাপ্রভুর সময় সেখানে যে বিগ্রহের পূজারী সেবক ছিল, তাঁর নাম ছিল গোপাল ।

সার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাড়ি কাশী মিশ্রের বাড়ির পাশে । এক দিন গোপাল দেখলেন যে, মহাপ্রভু জিহ্বায় কামড় দিয়ে বাথরুমে যাচ্ছেন ।

গোপাল জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে ? কী হয়েছে ?”

মহাপ্রভু কিছু বললেন না, আর যখন তিনি বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলেন, তখন গোপাল তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, আপনার কী ব্যাপার ? আপনি ওখানে জিহ্বায় কামড় দিয়ে গেলেন কেন ?”

তখন মহাপ্রভু বুঝিয়ে দিলেন, “ব্যাপারটা হচ্ছে যে, আমার জিহ্বাটা এত দুষ্ট হয়ে গেছে—সব সময় হরিনাম করতে চায় ! আমি বাথরুমে যাচ্ছি, এটা তো নোংরা জায়গা আর জিহ্বাটা পায়খানার মধ্যেও হরিনাম করতে যাচ্ছে ! তাই আমি জিহ্বাকে থামাতে চেষ্টা করলাম ।” আমরা কী কীর্ত্তনে গাই  ?

শরীর অবিদ্যা-জাল জড়েন্দিয় তাহে কাল
জীবে ফেলে বিষয় সাগরে ।
তার মধ্যে জিহ্বা অতি লোভময় সুদুর্ম্মতি
তা’কে জেতা কঠিন সংসারে ॥

জিহ্বাটা অতি লোভী, সুদুর্ম্মতি—জিহ্বাকে এখানে কেমন গাল দেওয়া হয় ! দুর্ম্মতি তো খারাপ আর সুদুর্ম্মতি আরও বেশী খারাপ ! জিহ্বা তো সব সময় সব চায়—আমরা যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, তখন হেঁটে হেঁটে সিঙ্গারা খেতে চাই, একটা চপ খেতে চাই, তাই না ?

জিহ্বার লালসে যেই ইতি-উতি খায় ।
শিশ্নোদরপরায়ণ সে কৃষ্ণ নাহি পায় ॥

(চৈঃ চঃ ৩/৬/২২৭)

মহাপ্রভু বললেন, “আমার জিহ্বা এত দুষ্ট হয়ে গেছে যে সব সময় হরিনাম ছাড়া কিছু মুখে আসে না ।” আর আমরা তো উল্টো রকম—আধ ঘণ্টা একঘণ্টা হরিনাম করি আর বাকি সময় আকথা কুকথা বলছি । হরিনাম করতে পারছি না ।

মহাপ্রভুর কথা শুনে গোপাল তখন একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, “কেন প্রভু ? আপনি তো নিজেই বলেছেন:

কি শয়নে, কি ভোজনে, কিবা জাগরণে ।
অহর্নিশ চিন্ত কৃষ্ণ, বলহ বদনে ॥

(চৈঃ চঃ ২/২৮/২৮)

“এটা তো আপনারই কথা প্রভু । অহর্নিশ মানে ২৪ ঘণ্টা—২৪ ঘণ্টা কীর্ত্তন করতে হবে । সেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনার বাথরুমেও যেতে হবে, তাই বাথরুমে বসে হরিনাম করলে কী অপরাধ আছে ? মালা নিয়ে যেতে হবে না, কিন্তু মুখে হরিনাম করলে কী অপরাধ আছে ?”

উত্তেজিত হয়ে মহাপ্রভু চিৎকার করলেন, “হ্যাঁ, তাই তো ! গোপাল, তুমি ঠিকই বলেছ ! আজ থেকে তুমি আর গোপাল নয়—আজ থেকে তোমার নাম হবে গোপাল গুরু !”

 


 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

 

অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


সূচীপত্র:

সূচনা : শ্রীজগন্নাথদেব
মহাপ্রভুর ইচ্ছা ও পুরীতে যাত্রার আরম্ভ
মহাপ্রভুর পুরীতে যাত্রা :
শান্তিপুর
রেমুণা
সাক্ষীগোপাল
ভুবনেশ্বর
ভুবনেশ্বর শ্রীলিঙ্গরাজ
আঠারনালা
শ্রীপুরীধামে :
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের সথে মিলন
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের শিক্ষা
কাশী মিশ্রের কথা
রামানন্দ রায়ের পুনর্মিলন ও প্রকৃতি
ভক্তদের সহিত শ্রীক্ষেত্রে বার্ষিক মিলন
রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি কৃপা
গোবিন্দ প্রভুর শিক্ষা
দর্শনের আর্ত্তি
শ্রীআলালনাথের কথা
কালিদাসের ব্যতিক্রম
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের প্রসাদে রুচি
“ষাঠী বিধবা হয়ে যাক !”
গঙ্গা মাতা গোস্বামিণী
শ্রীগোপাল গুরুর কথা
শ্রীজগদানন্দ পণ্ডিতের প্রেম
শ্রীলসনাতন গোস্বামীর সঙ্গ
রামচন্দ্র পুরীর কথা
শ্রীপরমানন্দ পুরীর ভক্তিকূপ
দামোদর পণ্ডিতের বিদায়
ছোট হরিদাসের শাস্তি
গুণ্ডিচা-মার্জ্জন লীলা
শ্রীনারায়ণ ছাতায়
চটকপর্ব্বতের কথা
গম্ভীরা—বিরহের জ্বলন্ত ঘর
শ্রীল হরিদাসঠাকুর : নামাচার্য্য শিরোমণি
শ্রীগদাধর পণ্ডিত : মহাপ্রভুর ছায়া
শ্রীরঘুনাথদাস গোস্বামীর শ্রীপুরীধামে আগমন ও ভজন
পরিশেষ

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥