শ্রীপুরীধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


শ্রীপরমানন্দ পুরীর ভক্তিকূপ

 

প্রভু বলে—“আমি যে আছিয়ে পৃথিবীতে ।
জানিহ কেবল পুরী গোসাঞির প্রীতে ॥

(চঃ ভঃ ৩/৩/২৫৫)

মাধবেন্দ্র পুরীর আর একটি শিষ্য ছিল—তাঁর নাম হচ্ছে পরমানন্দ পুরী । পরমানন্দ পুরী মহাপ্রভুর সঙ্গে নবদ্বীপ থেকে এসেছিলেন আর তাঁর সঙ্গে শ্রীপুরীধামে থাকতেন । তিনি মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ আর শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে, তিনি দ্বাপর-যুগে স্বয়ং উদ্ধব মহারাজ ছিলেন । সেই জন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে তাঁর কিছু বৎসল্য-রস ভাক্তি ছিল ।

মহাপ্রভু কাশী মিশ্রের কাছে আর একটা ঘর ভিক্ষা করেছিলেন—সেই ঘর তিনি পরমানন্দ পুরীকে দিয়ে দিলেন । মহাপ্রভু তাঁকে বেশী সম্মান করতেন । সেই ভাবে পরমানন্দ পুরী জগন্নাথ মন্দিরের পাশে বাস করতে লাগলেন ।

কিছু পর তিনি বাড়িতে ছোট মন্দির তৈরি করলেন আর তার পাশে একটা কূপ । কিন্তু এই কূপের জল তেতো ছিল বলে কেউ জলটা পান করতে পারতেন না । এক দিন মহাপ্রভু সেখানে গিয়ে জগন্নাথদেবের প্রার্থনা করলেন যেন গঙ্গা এই কূপের মধ্যে এসে জলটা মিষ্টি করবেন । জগন্নাথদেব ভগবানের প্রার্থনা শুনলেন—স্বয়ং গঙ্গা এই কূপের মধ্যে প্রকাশ হয়েছিলেন ।

মহাপ্রভু সমস্ত ভক্তগণকে ঘোষণা করলেন যে, সেই দিন থেকে এই কূপের জল গঙ্গা হয়ে গেল আর যে সেই জলে স্নান করবে বা সেই জল পান করবে, তার গঙ্গায় স্নান বা দর্শন ফল প্রাপ্ত হবে ।

 


 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

 

অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


সূচীপত্র:

সূচনা : শ্রীজগন্নাথদেব
মহাপ্রভুর ইচ্ছা ও পুরীতে যাত্রার আরম্ভ
মহাপ্রভুর পুরীতে যাত্রা :
শান্তিপুর
রেমুণা
সাক্ষীগোপাল
ভুবনেশ্বর
ভুবনেশ্বর শ্রীলিঙ্গরাজ
আঠারনালা
শ্রীপুরীধামে :
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের সথে মিলন
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের শিক্ষা
কাশী মিশ্রের কথা
রামানন্দ রায়ের পুনর্মিলন ও প্রকৃতি
ভক্তদের সহিত শ্রীক্ষেত্রে বার্ষিক মিলন
রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রতি কৃপা
গোবিন্দ প্রভুর শিক্ষা
দর্শনের আর্ত্তি
শ্রীআলালনাথের কথা
কালিদাসের ব্যতিক্রম
সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের প্রসাদে রুচি
“ষাঠী বিধবা হয়ে যাক !”
গঙ্গা মাতা গোস্বামিণী
শ্রীগোপাল গুরুর কথা
শ্রীজগদানন্দ পণ্ডিতের প্রেম
শ্রীলসনাতন গোস্বামীর সঙ্গ
রামচন্দ্র পুরীর কথা
শ্রীপরমানন্দ পুরীর ভক্তিকূপ
দামোদর পণ্ডিতের বিদায়
ছোট হরিদাসের শাস্তি
গুণ্ডিচা-মার্জ্জন লীলা
শ্রীনারায়ণ ছাতায়
চটকপর্ব্বতের কথা
গম্ভীরা—বিরহের জ্বলন্ত ঘর
শ্রীল হরিদাসঠাকুর : নামাচার্য্য শিরোমণি
শ্রীগদাধর পণ্ডিত : মহাপ্রভুর ছায়া
শ্রীরঘুনাথদাস গোস্বামীর শ্রীপুরীধামে আগমন ও ভজন
পরিশেষ

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥