শ্রীশ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতম্


পঞ্চমোঽধ্যায়ঃ

শ্রীভক্তবচনামৃতম্
রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসঃ

 

 

রক্ষিষ্যতি হি মাং কৃষ্ণো ভক্তানাং বান্ধবশ্চ সঃ ।
ক্ষেমং বিধাস্যতীতি যদ্ধিশ্বাসোঽত্রৈব গৃহ্যতে ॥১॥

শ্রীকৃষ্ণ নিশ্চয়ই আমাকে রক্ষা করিবেন ; যেহেতু তিনি ভক্তগণের বান্ধব । তিনি নিশ্চয়ই মঙ্গল বিধান করিবেন—এই প্রকার বিশ্বাসকেই প্রখানে ধরা হইয়াছে ॥১॥

সর্ব্বলোকেষু শ্রীকৃষ্ণপাদাব্জৈকরক্ষকত্বম্—
মর্ত্ত্যো মৃত্যুব্যালভীতঃ পলায়ন্
লোকান্ সর্ব্বান্ নির্ভয়ং নাধ্যগচ্ছৎ ।
ত্বৎপাদাব্জং প্রাপ্য যদৃচ্ছয়াদ্য
সুস্থঃ শেতে মৃত্যুরস্মাদপৈতি ॥২॥
শ্রীদেবক্যাঃ
সমস্ত লোকে শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মই একমাত্র রক্ষক—
“হে ভগবন্, মর্ত্ত্যপুরুষ মৃত্যুরূপ কালসর্প হইতে ভীত হইয়া নিখিল লোকে পলায়ন করিয়াও নির্ভয়প্রাপ্ত হয় নাই, পরন্তু অদ্য যদৃচ্ছাক্রমে ভবদীয় পাদপদ্ম প্রাপ্ত হইয়া সুস্থচিত্তে শয়ন করিতে সমর্থ হইয়াছে এবং মৃত্যু তাহার নিকট হইতে দূরীভূত হইয়াছে” ॥২॥
মায়াধীশস্যৈব ভগবতঃ ক্ষেমবিধাতৃত্বম্—
বিশ্বস্য যঃ স্থিতিলয়োদ্ভবহেতুরাদ্যো
যোগেশ্বরৈরপি দুরত্যয়যোগমায়ঃ ।
ক্ষেমং বিধাস্যতি স নো ভগবাংস্ত্র্যধীশ-
স্তত্রাস্মদীয়বিমৃশেন কিয়ানিহার্থঃ ॥৩॥
শ্রীব্রহ্মণঃ
মায়াধীশ ভগবানই মঙ্গল-বিধানে সমর্থ—
যিনি বিশ্বের সৃষ্টি-স্থিতি-ভঙ্গের হেতু, আদিপুরুষ, যাঁহার যোগমায়া যোগেশ্বরদিগেরও দুরতিক্রম্যা, ত্রিলোকাধীশ্বর সেই ভগবান্ই আমাদের মঙ্গল বিধান করিবেন । ইহাতে এক্ষণে আমাদের বিতর্কের কি প্রয়োজন ? ৩॥
আপদ্যপি শ্রীকৃষ্ণকথৈকরক্ষণবিশ্বাসঃ—
তং মোপযাতং প্রতিযন্তু বিপ্রা
গঙ্গা চ দেবী ধৃতচিত্তমীশে ।
দ্বিজোপসৃষ্টঃ কুহকস্তক্ষকো বা
দশত্বলং গায়ত বিষ্ণুগাথাঃ ॥৪॥
শ্রীবিষ্ণুরাতস্য
আপদ্­কালেও শ্রীহরিকথাই একমাত্র রক্ষক বলিয়া বিশ্বাস—
“বিপ্ররূপী আপনারা এবং গঙ্গাদেবী আমাকে শরণাগত ও কৃষ্ণে ধৃত (অর্পিত)-চিত্ত বলিয়া জানুন । এক্ষণে ব্রাহ্মণপ্রেরিত কুহকই হউক বা তক্ষকই হউক, আমাকে যথেচ্ছ দংশন করুক ; আপনারা কৃষ্ণকথা গান করিতে থাকুন” ॥৪॥
হরিদাসা হরিণা রক্ষিতা এব—
মাভৈর্মন্দমনো বিচিন্ত্য বহুধা যামীশ্চিরং যাতনা
নৈবামী প্রভবন্তি পাপ-রিপবঃ স্বামী ননু শ্রীধরঃ ।
আলস্যং ব্যপনীয় ভক্তি-সুলভং ধ্যায়স্ব নারায়ণং
লোকস্য ব্যসনাপনোদনকরো দাসস্য কিং ন ক্ষমঃ ॥৫॥
শ্রীকুলশেখরস্য
হরিদাসগণ হরিকর্ত্তৃক রক্ষিত আছেনই—
রে মন্দ মন, বহুদিনের ঐ সব বহুপ্রকার যাতনার কথা চিন্তা করিয়া ভয় পাইও না । ঐ পাপরিপুসমূহ প্রভুত্ব করিতে পারে না ; কেননা, ভগবান্ শ্রীধরই প্রকৃত প্রভু । তুমি আলস্য দূর করিয়া ভক্তিসুলভ ভগবান্ নারায়ণের ধ্যান কর । যিনি সমস্ত লোকের বিপদ ভঞ্জন করেন, তিনি কি নিজ দাসের ব্যসন-বিনাশে অসমর্থ ? ৫॥
সংসার-দুঃখক্লিষ্টানাং শ্রীবিষ্ণোঃ পরমং পদমেবৈকাশ্রয়ঃ—
ভবজলধিগতানাং দ্বন্দ্ববাতাহতানাং
সুতদুহিতৃকলত্রত্রাণভারার্দ্দিতানাম্ ।
বিষমবিষয়তোয়ে মজ্জতামপ্লবানাং
ভবতি শরণমেকো বিষ্ণুপোতো নরাণাম্ ॥৬॥
শ্রীকুলশেখরস্য
সংসারদুঃখগ্রস্তগণের শ্রীবিষ্ণুর পরমপদই একমাত্র আশ্রয়—
সংসার-সমুদ্র-মধ্যে পতিত রাগ-দ্বেষরূপ বাত্যাহত, পুত্রকলত্রাদি-ত্রাণ-ভারক্লিষ্ট, বিষয়রূপ বিষম-জলমধ্যে নিমগ্ন, নৌকাবিহীন মনুষ্যগণের ভগবান্ বিষ্ণুর শ্রীচরণ-তরীই একমাত্র শরণ ॥৬॥
শ্রীকৃষ্ণভজনমেব মর্ত্ত্যানামমৃতপ্রদম্—
ইদং শরীরং শতসন্ধিজর্জ্জরং
পতত্যবশ্যং পরিণামপেশলম্ ।
কিমৌষধং পৃচ্ছসি মূঢ় দুর্ম্মতে
নিরাময়ং কৃষ্ণরসায়নং পিব ॥৭॥
শ্রীকুলশেখরস্য
শ্রীকৃষ্ণভজনই মর্ত্ত্যজীবের অমৃতদানকারী—
“শত সন্ধি জর জর,তব এই কলেবর,
পতন হইবে একদিন ।
ভস্ম ক্রিমি বিষ্ঠা হবে,সকলের ঘৃণ্য তবে,
ইহাতে মমতা অর্ব্বাচীন ॥
ওরে মন শুন মোর এ সত্য বচন
এ রোগের মহৌষধি,কৃষ্ণনাম নিরবধি,
নিরাময় কৃষ্ণ রসায়ন” ॥৭॥
অত্যধমেষ্বপি ভগবন্নাম্নোঽভীষ্টদাতৃত্বম্—
সত্যং ব্রবীমি মনুজাঃ স্বয়মূর্দ্ধ্ববাহু-
র্যো যো মুকুন্দ নরসিংহ জনার্দ্দনেতি ।
জীবো জপত্যনুদিনং মরণে রণে বা
পাষাণ-কাষ্ঠসদৃশায় দদাত্যভীষ্টম্ ॥৮॥
শ্রীকুলশেখরস্য
শ্রীভগবানের নাম অতি অধম জনেরও অভীষ্টদাতা—
হে মনুষ্যগণ, আমি উর্দ্ধ্ববাহু হইয়া এই সত্য ঘোষণা করিতেছি যে, মুকুন্দ, নরসিংহ, জনার্দ্দন প্রভৃতি নাম-সমূহ যে যে ব্যক্তিগণ মরণে-রণে সর্ব্বক্ষণ জপ করেন, (সে ব্যক্তি) কাষ্ঠ-পাষাণতুল্য হইলেও নাম তাহাকে অভীষ্ট ফল প্রদান করেন ॥৮॥
স্বশত্রবেঽপি সদ্গতিদায়কো হরিঃ—
অহো বকী যং স্তনকালকূটং
জিঘাংসয়াপায়য়দপ্যসাধ্বী ।
লেভে গতিং ধাক্র্যচিতাং ততোঽন্যং
কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেম ॥৯॥
শ্রীমদুদ্ধবস্য
শ্রীহরি নিজ শক্ররও সদ্গতিদায়ক—
“অহো ! এই বকাসুর-ভগ্নী অসাধ্বী পূতনা যাঁহাকে বধ করিবার জন্য স্তনকালকূট পান করাইয়া ধাত্রীযোগ্যা গতি লাভ করিয়াছিল, সেই শ্রীকৃষ্ণ বিনা আর কোন্ দয়ালুর শরণাপন্ন হইতে পারি ?” ৯॥
অযোগ্যানামপ্যাশাস্থলম্—
দুরন্তস্যানাদেরপরিহরণীয়স্য মহতো
বিহীনাচারোঽহং নৃপশুরশুভস্যাস্পদমপি ।
দয়াসিন্ধো বন্ধো নিরবধিক-বাৎসল্যজলধে-
স্তব স্মারং স্মারং গুণগণমিতীচ্ছামিগতভীঃ ॥১০॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
অযোগ্যগণেরও ভরসাস্থল—
হে দয়াসিন্ধো, আমি দুরাচার নর-পশু, অনাদি, দুস্ত্যাজ্য, দুরন্ত, মহান্ অশুভের আলয়স্বরূপ । কিন্তু অসীম বাৎসল্য-সমুদ্র পরম-বন্ধু তোমার গুণরাশি পুনঃপুনঃ স্মরণ করিয়া নির্ভয়ে অবস্থান করিতেছি ॥১০॥
অসকৃদপরাধিনামপি মোচকঃ—
রঘুবর যদভূস্ত্বং তাদৃশো বায়সস্য
প্রণত ইতি দায়লুর্যস্য চৈদ্যস্য কৃষ্ণ ।
প্রতিভবমপরাদ্ধুর্মুগ্ধ সাযুজ্যদোভূ-
র্বদ কিমপদমাগস্তস্য তেঽস্তি ক্ষমায়াঃ ॥১১॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
পুনঃপুনঃ অপরাধকারিগণেরও মোচনকর্ত্তা—
হে রঘুবর, তুমি যে তাদৃশ (অপরাধী) কাকের প্রণতি মাত্রে সদয় হইয়াছিলে । হে মনোহর কৃষ্ণ, তুমি যে জন্মে জন্মে অপরাধী শিশুপালের সাযুজ্য-মুক্তিদান করিয়াছিলে । অতএব তুমিই বল তোমার ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ কি আছে ? ১১॥
শরণাগত-হেলনং তস্মিন্নসম্ভবম্—
অভূতপূর্ব্বং মম ভাবি কিংবা
সর্ব্বং সহে মে সহজং হি দুঃখম্ ।
কিন্তু ত্বদগ্রে শরণাগতানাং
পরাভবো নাথ ন তেঽনুরূপঃ ॥১২॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
শরণাগত ভক্তের প্রতি হেলা তাঁহাতে অসম্ভব—
হে নাথ, অভূতপূর্ব্ব আমার কি বা হইবে ? সকলই সহিতে পারি । দুঃখই ত’ আমার স্বাভাবিক সঙ্গ । কিন্তু তোমার সম্মুখে শরণাগতের পরাভব কদাপি তোমার যোগ্য হইবে না ॥১২॥
বহিরন্যথা প্রদর্শয়তোঽপি স্বরূপতঃ পালকত্বম্—
নিরাশকস্যাপি ন তাবদুৎসহে
মহেশ হাতুং তব পাদপঙ্কজম্ ।
রুষা নিরস্তোঽপি শিশুঃ স্তনন্ধয়ো
ন জাতু মাতুশ্চরণৌ জিহাসতি ॥১৩॥
শ্রীযামুনাচার্য্যস্য
বাহিরে অন্যরূপ দেখাইলেও স্বরূপতঃ পালনকারী—
হে মহেশ্বর, তুমি নিরাশ করিলেও আমি কোনরূপে তোমার পাদপদ্ম পরিহার করিতে পারি না । জননী ক্রুদ্ধ হইয়া স্তনন্ধয় শিশুকে ত্যাগ করিলে শিশু কি কখনও মাতার চরণদ্বয় ছাড়িয়া দেয় ? ১৩॥
তদিতরাশ্রয়াভাবাৎ তস্যৈবৈকরক্ষকত্বম্—
ভূমৌ স্খলিতপাদানাং ভূমিরেবাবলম্বনম্ ।
ত্বয়ি জাতাপরাধানাং ত্বমেব শরণং প্রভো ॥১৪॥
স্কান্দে
তিনি ব্যতীত অন্য আশ্রয় না থাকায় তাঁহারই একমাত্র রক্ষকত্ব সিদ্ধ—
ভূমিতে স্খলিত পদ-জনগণের ভূমিই যেমন অবলম্বন, হে প্রভো, তদ্রূপ তোমাতে অপরাধকারিগণের তুমিই একমাত্র আশ্রয় ॥১৪॥
নিরাশ্রয়াণামেবৈকাশ্রয়ঃ—
বিবৃত-বিবিধবাধে ভ্রান্তিবেগাদগাধে
বলবতি ভবপুরে মজ্জতো মে বিদূরে ।
অশরণগণবন্ধো হা কৃপাকৌমুদীন্দো
সকৃদকৃতবিলম্বং দেহি হস্তাবলম্বম্ ॥১৫॥
শ্রীরূপপাদানাং
নিরাশ্রয়গণেরই একমাত্র আশ্রয়—
বিবিধ বাধা-বিস্তৃত ভ্রান্তি-বেগযুক্ত অগাধ বলবান্-সমুদ্রে দূরপ্রদেশে আমি মগ্ন হইতেছি । হে অশরণজনগণের বন্ধো, হে কৃপাসুধাকর, একবার অবিলম্বে তোমার হস্তাবলম্বন দান কর ॥১৫॥
বিলম্বাসহনস্য ভক্তস্য তদ্­রক্ষণবিশ্রব্ধত্বম্—
যা দ্রৌপদীপরিত্রাণে যা গজেন্দ্রস্য মোক্ষণে ।
ময্যার্ত্তে করুণামূর্ত্তে সা ত্বরা ক্ব গতা হবে ॥১৬॥
জগন্নাথস্য
অবিলম্বে রক্ষণাকাঙ্ক্ষী ভক্তের রক্ষকত্বে পূর্ণ বিশ্বাস—
হে হরে, দ্রৌপদীর পরিত্রাণে ও গজেন্দ্রের মোক্ষণে তুমি যে ত্বরা দেখাইয়াছিলে, হে করুণামূর্ত্তে, আজ আমি আর্ত্ত ; তোমার সেই ত্বরা কোথায় গেল ? ১৬॥
রক্ষিষ্যতীতি-বিশ্বাসস্য প্রকাশমাধুর্য্যম্—
তমসি রবিরিবোদ্যন্মজ্জতামপ্লবানাং
প্লব ইব তৃষিতানাং স্বাদুবর্ষীব মেঘঃ ।
নিধিরিব নিধনানাং তীব্রদুঃখাময়ানাং
ভিষগিব কুশলং নো দাতুমায়াতি শৌরিঃ ॥১৭॥
শ্রীদ্রৌপদ্যাঃ
ভগবান্ রক্ষা করিবেন এই বিশ্বাসের মূর্ত্তিমাধুর্য্য—
অন্ধকারে উদীয়মান সুর্য্যের ন্যায়, নিরাশ্রয়, মগ্নোন্মুখ জনগণের নৌকার ন্যায়, তৃষ্ণাতুরগণের স্বাদুজল মেঘের ন্যায়, নির্ধনগণের নিধির ন্যায়, তীব্র ব্যাধিপীড়িতগণের বিকিৎসকের ন্যায়, ঐ কৃষ্ণ আমাদের কুশল বিধান করিতে আসিতেছেন ॥১৭॥
তদ্­রক্ষকত্বে তৎকারুণ্যমেব কারণম্—
প্রাচীনানাং ভজনমতুলং দুষ্করং শৃণ্বতো মে
নৈরাশ্যেন জ্বলতি হৃদয়ং ভক্তিলেশালসস্য ।
বিশ্বদ্রীচীমঘহর তবাকর্ণ্য কারুণ্যবীচী-
মাশাবিন্দূক্ষিতমিদমুপৈত্যন্তরে হন্ত শৈত্যম্ ॥১৮॥
শ্রীরূপপাদানাং
ভগবৎরক্ষকত্বের কারণ তাঁহার করুণা—
হে অঘহর, প্রাচীন মহাত্মাগণের অতুলনীয় সুদুষ্কর সাধন-ভজনের কথা শ্রবণ করিয়া ভক্তিলেশবিমুখ আমার হৃদয় নৈরাশ্যে দগ্ধ হইতেছে । কিন্তু তোমার বিশ্বপ্লাবী কারুণ্য-লহরীর কথা শ্রবণ করিয়া আমার অন্তর আবার আশাবিন্দ-সিক্ত হইয়া সুশীতল বোধ করিতেছে ॥১৮॥
ভগবতঃ শ্রীচৈতন্যরূপস্য পরমৌদার্য্যম্—
হা হন্ত চিত্তভুবি মে পরমোষরায়াং
সদ্ভক্তিকল্পলতিকাঙ্কুরিতা কথং স্যাৎ ।
হৃদ্যেকমেব পরমাশ্বসনীয়মস্তি
চৈতন্যনাম কলয়ন্ন কদাপি শোচ্যঃ ॥১৯॥
শ্রীপ্রবোধানন্দপাদানাং
ভগবান্ শ্রীচৈতন্যদেবের পরম উদারতা—
হায় হায় ! আমার এই অত্যন্ত ঊষর চিত্ত-ভূমিতে সুশোভনা ভক্তিকল্পলতিকা কিরূপে অঙ্কুরিতা হইবেন ? তবে হৃদয়ে একমাত্র পরম-আশার বিষয় এই জাগিতেছে যে, শ্রীচৈতন্যদেবের নাম গ্রহণ করিয়া কাহাকেও কখনও শোচনীয় হইতে হয় না ॥১৯॥
শ্রীগৌরহরেঃ সর্ব্বোপায়বিহীনেষ্বপি রক্ষকত্বম্—
জ্ঞানাদিবর্ত্মবিরুচিং ব্রজনাথভক্তি-
রীতিং ন বেদ্মি ন চ সদ্­গুরবো মিলন্তি ।
হা হন্ত হন্ত মম কঃ শরণং বিমূঢ়
গৌরোহরিস্তব ন কর্ণপথং গতোঽস্তি ॥২০॥
শ্রীপ্রবোধানন্দপাদানাং
সর্ব্বোপায়বিহীনেরও রক্ষক শ্রীগৌরহরি—
জ্ঞানাদি পন্থায় অশ্রদ্ধা উৎপাদনকারী ব্রজভজন-রীতি আমি জানি না ।সদ্­গুরুগণের সাক্ষাৎকার ত’ আমার ঘটিতেছে না । হায়, হায়, আমি কাহার শরণ গ্রহণ করি ? ওহে বিমূঢ়-ব্যক্তি ! তুমি কি শ্রীগৌরহরির কথা শ্রবণ কর নাই ? ২০॥

ইতি শ্রীপ্রপন্নজীবনামৃতে শ্রীভক্তবচনামৃতান্তর্গতো
রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসো নাম পঞ্চমোঽধ্যায়ঃ ।

 

 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

 

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥