আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি প্রণামী ENGLISH
 

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


—: শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য :—

প্রথম অধ্যায় :
শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন

(শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত)

 

জয় জয় নবদ্বীপচন্দ্র শচীসুত ।
জয় জয় নিত্যানন্দরায় অবধূত ॥
জয় জয় শ্রীঅদ্বৈত প্রভু মহাশয় ।
গদাধর শ্রীবাস পণ্ডিত জয় জয় ॥
জয় নবদ্বীপধাম সর্ব্বধাম-সার ।
জয় নবদ্বীপবাসী গৌর পরিবার ॥
সকল ভকত পদে করিয়া প্রণাম ।
সংক্ষেপে বর্ণিব আমি নবদ্বীপধাম ॥
নবদ্বীপমণ্ডলের মহিমা অপার ।
ব্রহ্মা আদি নাহি জানে বর্ণে সাধ্য কার ॥
সহস্র বদনে শেষ বর্ণিতে অক্ষম ।
ক্ষুদ্রজীব আমি কিসে হইব সক্ষম ॥
সত্য বটে নবদ্বীপ মহিমা অনন্ত ।
দেব-দেব মহাদেব নাহি পায় অন্ত ॥
তথাপি চৈতন্যচন্দ্র ইচ্ছা বলবান ।
সেই ইচ্ছাবশে ভক্ত আজ্ঞার বিধান ॥
ভক্তগণে আজ্ঞা দিল চৈতন্য ইচ্ছায় ।
নদীয়া মাহাত্ম্য বর্ণি ভক্তের কৃপায় ॥
আর এক কথা আছে গূঢ় অতিশয় ।
কহিতে না ইচ্ছা হয় না কহিলে নয় ॥
যে অবধি শ্রীচৈতন্য অপ্রকট হৈল ।
ধাম লীলা প্রকাশিতে ভক্তে আজ্ঞা দিল ॥
সর্ব্ব অবতার হৈতে গূঢ় অবতার ।
শ্রীচৈতন্যচন্দ্র মোর বিদিত সংসার ॥
গূঢ় লীলা শাস্ত্রে গূঢ়রূপে উক্ত হয় ।
অভক্ত জনের চিত্তে না হয় উদয় ॥
সে লীলা সম্বন্ধে যত গূঢ় শাস্ত্র ছিল ।
মায়াদেবী বহুকাল আচ্ছাদি রাখিল ॥
অপ্রকট শাস্ত্র বহু রহে যথা তথা ।
প্রকট শাস্ত্রেও যত চৈতন্যের কথা ॥
সে সকল মায়াদেবী পণ্ডিত নয়ন ।
আবরিয়া রাখে গুপ্ত ভাবে অনুক্ষণ ॥
গৌরের গম্ভীর লীলা হৈলে অপ্রকট ।
প্রভু ইচ্ছা জানি মায়া হয় অকপট ॥
উঠাইয়া লৈল জাল জীব চক্ষু হৈতে ।
প্রকাশিল গৌর তত্ত্ব এ জড় জগতে ॥
গুপ্ত শাস্ত্র অনায়াসে হইল প্রকট ।
ঘুচিল জীবের যত যুক্তির সঙ্কট ॥
বড়ই দয়ালু প্রভু নিত্যানন্দরায় ।
গৌরতত্ত্ব প্রকাশিল জীবের হিয়ায় ॥
তাঁর আজ্ঞা পেয়ে মায়া ছাড়ে আবরণ ।
সুভক্ত পণ্ডিতগণ পায় শাস্ত্র ধন ॥
ইহাতে সন্দেহ যার না হয় খণ্ডন ।
সে অভাগা বৃথা কেন ধরয় জীবন ॥
যে কালে ঈশ্বর যেই কৃপা বিতরয় ।
ভাগ্যবন্ত জন তাহে বড় সুখী হয় ॥
দুর্ভাগা লক্ষণ এই জান সর্ব্বজন ।
নিজ বুদ্ধি বড় বলি করিয়া গণন ॥
ঈশ্বরের কৃপা নাহি করয় স্বীকার ।
কুতর্কে মায়ার গর্ত্তে পড়ে বারবার ॥
এস হে কলির জীব ছাড় কুটিনাটি ।
নির্ম্মল গৌরাঙ্গ প্রেম লহ পরিপাটি ॥
এই বলি নিত্যানন্দ ডাকে বারবার ।
তবুত দুর্ভাগা জন না করে স্বীকার ॥
কেন যে এমন প্রেমে করে অনাদর ।
বিচার করিয়া দেখ হইয়া তৎপর ॥
সুখ লাগি সর্ব্ব জীব নানা যুক্তি করে ।
তর্ক করে যোগ করে সংসার ভিতরে ॥
সুখ লাগি সংসার ছাড়িয়া বনে যায় ।
সুখ লাগি যুদ্ধ করে রাজায় রাজায় ॥
সুখ লাগি কামিনী কনক পাছে ধায় ।
সুখ লাগি শিল্প আর বিজ্ঞান চালায় ॥
সুখ লাগি সুখ ছাড়ে ক্লেশ শিক্ষা করে ।
সুখ লাগি অর্ণব মধ্যেতে ডুবি মরে ॥
নিত্যানন্দ বলে ডাকি দুহাত তুলিয়া ।
এস জীব কর্ম্ম-জ্ঞান-সঙ্কট ছাড়িয়া ॥
সুখ লাগি চেষ্টা তব আমি তাহা দিব ।
তার বিনিময়ে আমি কিছু না লইব ॥
কষ্ট নাই ব্যয় নাই না পাবে যাতনা ।
শ্রীগৌরাঙ্গ বলি নাচ নাহিক ভাবনা ॥
যে সুখ আমি ত দিব তার নাই সম ।
সর্ব্বদা বিমলানন্দ নাহি তার ভ্রম ॥
এই রূপে প্রেম যাচে নিত্যানন্দরায় ।
অভাগা করম দোষে তাহা নাহি চায় ॥
গৌরাঙ্গ নিতাই যেই বলে একবার ।
অনন্ত করম দোষ অন্ত হয় তার ॥
আর এক গূঢ় কথা শুন সর্ব্বজন ।
কলি জীবে যোগ্য বস্তু গৌর লীলা ধন ॥
গৌর হরি রাধা কৃষ্ণ রূপে বৃন্দাবনে ।
নিত্য কাল বিলাস করয় সখী সনে ॥
শাস্ত্রেতে জানিল জীব ব্রজলীলাতত্ত্ব ।
রাধাকৃষ্ণ নিত্যলীলা ব্রজের মহত্ব ॥
কৃষ্ণনাম কৃষ্ণধাম মাহাত্ম্য অপার ।
শাস্ত্রের দ্বারায় জানে সকল সংসার ॥
তবু কৃষ্ণপ্রেম সাধারণে নাহি পায় ।
ইহার কারণ কিবা চিন্তহ হিয়ায় ॥
ইহাতে আছেত এক গূঢ় তত্ত্ব সার ।
মায়ামুগ্ধ জীব তাহা না করে বিচার ॥
বহু জন্ম কৃষ্ণ ভজি প্রেম নাহি হয় ।
অপরাধ পুঞ্জ তার আছয় নিশ্চয় ॥
অপরাধ শূন্য হয়ে লয় কৃষ্ণ নাম ।
তবে জীব কৃষ্ণপ্রেম লভে অবিরাম ॥
শ্রীচৈতন্য অবতারে বড় বিলক্ষণ ।
অপরাধ সত্ত্বে জীব লভে প্রেম ধন ॥
নিতাই চৈতন্য বলি যেই জীব ডাকে ।
সুবিমল কৃষ্ণপ্রেম অন্বেষয় তাকে ॥
অপরাধ বাধা তার কিছু নাহি করে ।
নিরমল কৃষ্ণপ্রেমে তার আঁখি ঝরে ॥
স্বল্পকালে অপরাধ আপনি পলায় ।
হৃদয় শোধিত হয় প্রেম বাড়ে তায় ॥
কলিজীবের অপরাধ অসংখ্য দুর্ব্বার ।
গৌর নাম বিনা তার নাহিক উদ্ধার ॥
অতএব গৌর বিনা কলিতে উপায় ।
না দেখি কোথাও আর শাস্ত্র ফুকরায় ॥
নবদ্বীপে গৌরচন্দ্র হইল উদয় ।
নবদ্বীপ সর্ব্বতীর্থ অবতংশ হয় ॥
অন্য তীর্থে অপরাধী দণ্ডের ভাজন ।
নবদ্বীপে অপরাধ সদাই মার্জ্জন ॥
তার সাক্ষী জগাই মাধাই দুই ভাই ।
অপরাধ করি পাইল চৈতন্য নিতাই ॥
অন্যান্য তীর্থের কথা রাখ ভাই দূরে ।
অপরাধী দৈত্য দণ্ড পায় ব্রজপুরে ॥
নবদ্বীপে শত শত অপরাধ করি ।
অনায়াসে নিতাই কৃপায় যায় তরি ॥
হেন নবদ্বীপধাম যে গৌড়মণ্ডলে ।
ধন্য ধন্য সেই দেশ ঋষিগণ বলে ॥
হেন নবদ্বীপে ভাই যাহার বসতি ।
বড় ভাগ্যবান সেই লভে কৃষ্ণরতি ॥
নবদ্বীপে যে বা কভু করয় গমন ।
সর্ব্ব অপরাধ মুক্ত হয় সেই জন ॥
সর্ব্ব তীর্থ ভ্রমিয়া তৈর্থিক যাহা পায় ।
নবদ্বীপ স্মরণে সে লাভ শাস্ত্রে গায় ॥
নবদ্বীপ দরশন করে যেই জন ।
জন্মে জন্মে লভে সেই কৃষ্ণপ্রেম ধন ॥
কর্ম্ম-বুদ্ধি যোগেও যে নবদ্বীপে যায় ।
নর জন্ম আর সেই জন নাহি পায় ॥
নবদ্বীপ ভ্রমিতে সে পদে পদে পায় ।
কোটী অশ্বমেধ ফল সর্ব্ব শাস্ত্রে গায় ॥
নবদ্বীপে বসি যেই মন্ত্র জপ করে ।
শ্রীমন্ত্র চৈতন্য হয় অনায়াসে তরে ॥
অন্য তীর্থে যোগী দশবর্ষে লভে যাহা ।
নবদ্বীপে তিনরাত্রে সাধি পায় তাহা ॥
অন্য তীর্থে ব্রহ্মজ্ঞানে যেই মুক্তি হয় ।
নবদ্বীপে ভাগীরথী স্নানে তা ঘটয় ॥
সালোক্য সারূপ্য সার্ষ্টি সামীপ্য নির্ব্বাণ ।
নবদ্বীপে মুমুক্ষু লভয় বিনা জ্ঞান ॥
নবদ্বীপে শুদ্ধভক্ত চরণে পড়িয়া ।
ভুক্তি মুক্তি সদা রহে দাসী রূপে হৈয়া ॥
ভক্তগণ লাথি মারি সে দুয়ে তাড়ায় ।
ভক্তপদ ছাড়ি দাসী তবু না পলায় ॥
শতবর্ষ সপ্ততীর্থে মিলে যাহা ভাই ।
নবদ্বীপে একমাত্র বাসে তাহা পাই ॥
হেন নবদ্বীপধাম সর্ব্বধাম সার ।
কলিতে আশ্রয় করি জীব হয় পার ॥
তারক পারক বিদ্যাদ্বয় অবিরত ।
নবদ্বীপবাসীগণে সেবে রীতিমত ॥
নিতাই জাহ্ণবা পদ ছায়া যার আশ ।
সে ভক্তিবিনোদ গায় পাইয়া উল্লাস ॥

 


 

← Main page-এ ফিরে
← গ্রন্থাগারে ফিরে

 


শ্রীনবদ্বীপধাম
মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


এইগ্রন্থশিরোমণি শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এবং তাঁর শ্রীচরণের তৃপ্তির জন্য তাঁর অহৈতুক কৃপায় শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠ হইতে প্রকাশিত হয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শুভার্বিভাব তিথিতে শ্রীগৌরাব্দ ৫৩৪, বঙ্গাব্দ ১৪২৬, খৃষ্টাব্দ মার্চ্চ ২০২০ ।


সূচীপত্র:

শ্রীগৌরধাম ও শ্রীভক্তিবিনোদ

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য
(১) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন
(২) শ্রীশ্রীগৌড়মণ্ডল ও শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের বাহ্যস্বরূপ ও পরিমাণ
(৩) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি
(৪) শ্রীজীবের আগমন ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপতত্ত্ব বলেন
(৫) শ্রীমায়াপুর ও শ্রীঅন্তর্দ্বীপের কথা
(৬) শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন
(৭) শ্রীসুবর্ণবিহার ও শ্রীদেবপল্লী বর্ণন
(৮) শ্রীহরিহরক্ষেত্র, শ্রীমহাবারাণসী ও শ্রীশ্রীগোদ্রুমদ্বীপ বর্ণন
(৯) শ্রীমধ্যদ্বীপ ও নৈমিষ বর্ণন
(১০) শ্রীব্রাহ্মণপুষ্কর, শ্রীউচ্চহট্টাদি দর্শন ও পরিক্রমা-ক্রম বর্ণন
(১১) শ্রীশ্রীকোলদ্বীপ, শ্রীসমুদ্রগড়, শ্রীচম্পাহট্ট ও শ্রীজয়দেব-কথা বর্ণনা
(১২) শ্রীশ্রীঋতুদ্বীপ ও শ্রীরাধাকুণ্ড বর্ণন
(১৩) শ্রীবিদ্যানগর ও শ্রীজহ্ণুদ্বীপ বর্ণন

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভজনকুটির (স্বানন্দ-সুখদা-কুঞ্জ)
শ্রীনৃসিংহপল্লী
শ্রীকোলদ্বীপ


বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥