আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি প্রণামী ENGLISH
 

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


—: শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য :—

ষষ্ঠ অধ্যায় :
শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন

(শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত)

 

জয় জয় শ্রীচৈতন্য শচীর নন্দন ।
জয় নিত্যানন্দ প্রভু জাহ্ণবা জীবন ॥
জয় জয় সীতানাথ জয় গদাধর ।
জয় জয় শ্রীবাসাদি গৌর পরিকর ॥
পরদিন প্রাতে প্রভু নিত্যানন্দরায় ।
শ্রীবাস শ্রীজীব লয়ে গৃহ বাহিবার ॥
সঙ্গে চলে রামদাস আদি ভক্তগণ ।
যাইতে যাইতে করে গৌর সঙ্কীর্ত্তন ॥
অন্তর্দ্বীপ প্রান্তে প্রভু আইলা যখন ।
শ্রীগঙ্গানগর জীবে দেখায় তখন ॥
প্রভু বলে শুন জীব এ গঙ্গানগর ।
স্থাপিলেন ভাগীরথ রঘু বংশধর ॥
যবে গঙ্গা ভাগীরথী আইল চলিয়া ।
ভগীরথ যায় আগে শঙ্খ বাজাইয়া ॥
নবদ্বীপধামে আসি গঙ্গা হয় স্থির ।
ভগীরথ দেখে গঙ্গা না হয় বাহির ॥
ভয়েতে বিহ্বল হয়ে রাজা ভগীরথ ।
গঙ্গার নিকটে আইল ফিরি কত পথ ॥
গঙ্গানগরেতে বসি তপ আরম্ভিল ।
তপে তুষ্ট হয়ে গঙ্গা সাক্ষাৎ হইল ॥
ভগীরথ বলে মাতা তুমি নাহি গেলে ।
পিতৃলোক উদ্ধার না হবে কোন কালে ॥
গঙ্গা বলে শুন বাছা ভগীরথ বীর ।
কিছু দিন তুমি হেথা হয়ে থাক স্থির ॥
মাঘমাসে আসিয়াছি নবদ্বীপধামে ।
ফাল্গুনের শেষে যাব তব পিতৃকামে ॥
যাহার চরণজল আমি ভগীরথ ।
তার নিজধামে মোর পূরে মনোরথ ॥
ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথি প্রভু জন্ম দিন ।
সেই দিন মম ব্রত আছে সমীচীন ॥
সেই ব্রত উদ্­যাপন করিয়া নিশ্চয় ।
চলিব তোমার সঙ্গে না করিহ ভয় ॥
এ গঙ্গানগরে রাজা রঘুকুলপতি ।
ফাল্গুনী পূর্ণিমা দিনে করিল বসতি ॥
যেই জন শ্রীফাল্গুনী পূর্ণিমা দিবসে ।
গঙ্গা স্নান করি গঙ্গানগরেতে বসে ॥
শ্রীগৌরাঙ্গ পূজা করে উপবাস করি ।
পূর্ব্ব পুরুষের সহ সেই যায় তরি ॥
সহস্র পুরুষ পূর্ব্বগণ সঙ্গে করি ।
শ্রীগোলোক প্রাপ্ত হয় যথা তথা মরি ॥
ওহে জীব এস্থানের মাহাত্ম্য অপার ।
শ্রীচৈতন্য নৃত্য যথা কৈল কতবার ॥
গঙ্গাদাস গৃহে আর সঞ্জয় আলয় ।
ঐ দেখ দৃষ্ট হয় সদা সুখময় ॥
ইহার পূর্ব্বেতে যেই দীর্ঘিকা সুন্দর ।
তাহার মাহাত্ম্য শুন ওহে বিজ্ঞবর ॥
বল্লালদীর্ঘিকা নাম হয়েছে এখন ।
সত্যযুগে ছিল এর কত বিবরণ ॥
পৃথু নামে মহারাজা উচ্চ নীচ স্থান ।
কাটিয়া পৃথিবী যবে করিল সমান ॥
সেইকাল এই স্থান সমান করিতে ।
মহাজ্যোতির্ম্ময় প্রভা উঠে চতুর্ভিতে ॥
কর্ম্মাচারীগণ মহারাজারে জানায় ।
রাজা আসি জ্যোতিঃপুঞ্জ দেখিবারে পায় ॥
শক্ত্যাবেশ অবতার পৃথু মহাশয় ।
ধ্যানেতে জানিল স্থান নবদ্বীপ হয় ॥
স্থানের মাহাত্ম্য গুপ্ত রাখিবার তরে ।
আজ্ঞাদিল কর কুণ্ড স্থান মনোহরে ॥
যে কুণ্ড করিল তাহা পৃথুকুণ্ড নামে ।
বিখ্যাত হইল সর্ব্ব নবদ্বীপধামে ॥
স্বচ্ছ জল পান করি গ্রামবাসীগণে ।
কত সুখ পাইল তার কহিব কেমনে ॥
পরে সেই স্থানে শ্রীলক্ষ্মণসেন ধীর ।
দীর্ঘিকা খনন কৈল বড়ই গভীর ॥
নিজ পিতৃলোকের উদ্ধার করি আশ ।
বল্লালদীর্ঘিকা নাম করিল প্রকাশ ॥
ঐ দেখ উচ্চটিলা দেখিতে সুন্দর ।
লক্ষণসেনের গৃহ ভগ্ন অতঃপর ॥
এ সকল অলঙ্কার মহাতীর্থ স্থানে ।
রাজগণ করে সদা পুণ্য উপার্জ্জনে ॥
পরেতে যবন রাজ দুষিল এস্থান ।
অতএব ভক্তগণ না করে সম্মান ॥
ভূমি মাত্র সুপবিত্র এই স্থানে হয় ।
যবন সংসর্গ ভয়ে বাস না করয় ॥
এস্থানে হইল শ্রীমূর্ত্তির অপমান ।
অতএব ভক্তবৃন্দ ছাড়ে এই স্থান ॥
এতবলি নিত্যানন্দ গর্জ্জিতে গর্জ্জিতে ।
আইলেন সিমুলীয়া গ্রাম সন্নিহিতে ॥
সিমুলীয়া দেখি প্রভু জীব প্রতি কয় ।
এইত সীমন্তদ্বীপ জানিহ নিশ্চয় ॥
গঙ্গার দক্ষিণ তীরে নবদ্বীপ প্রান্তে ।
সীমন্ত নামেতে দ্বীপ বলে সব শান্তে ॥
কালে এই দ্বীপ গঙ্গা গ্রাসিবে সকল ।
রহিবে কেবল এক স্থান সুনির্ম্মল ॥
যথায় সিমুলী নামে পার্ব্বতী পূজন ।
করিবে বিষয়ী লোক করহ শ্রবণ ॥
কোন কালে সত্যযুগে দেব মহেশ্বর ।
শ্রীগৌরাঙ্গ বলি নৃত্য করিল বিস্তর ॥
পার্ব্বতী জিজ্ঞাসে তবে দেব মহেশ্বরে ।
কেবা সে গৌরাঙ্গ দেব বলহ আমারে ॥
তোমার অদ্ভুত নৃত্য করি দরশন ।
শুনিয়া গৌরাঙ্গ নাম গলে মোর মন ॥
এত যে শুনেছি মন্ত্র তন্ত্র এত কাল ।
সে সব জানিনু মাত্র জীবের জজ্ঞাল ॥
অতএব বল প্রভু গৌরাঙ্গ সন্ধান ।
ভজিয়া তাঁহারে আমি পাইব পরাণ ॥
পার্ব্বতীর কথা শুনি দেব পশুপতি ।
শ্রীগৌরাঙ্গ স্মরি কহে পার্ব্বতীর প্রতি ॥
আদ্যাশক্তি তুমি হও শ্রীরাধার অংশ ।
তোমারে বলিব তত্ত্বগণ অবতংশ ॥
রাধাভাব লয়ে কৃষ্ণ কলিতে এবার ।
মায়াপুরে শচীগর্ভে হবে অবতার ॥
কীর্ত্তন রঙ্গেতে মাতি প্রভু গোরামণি ।
বিতরিবে প্রেমরত্ন পাত্র নাহি গণি ॥
এই প্রেম বন্যা জলে যে জীব না ভাসে ।
ধিক তার ভাগ্যে দেবি জীবন বিলাসে ॥
প্রভুর প্রতিজ্ঞা স্মরি প্রেমে যাই ভাসি ।
ধৈরয না ধরে মন ছাড়িলাম কাশী ॥
মায়াপুর অন্তর্ভাগে জাহ্ণবীর তীরে ।
গৌরাঙ্গ ভজিব আমি রহিয়া কুটীরে ॥
ধূর্জ্জটির বাক্য শুনি পার্ব্বতীসুন্দরী ।
আইলেন সীমন্ত দ্বীপেতে ত্বরা করি ॥
শ্রীগৌরাঙ্গ রূপ সদা করেন চিন্তন ।
গৌর বলি প্রেমে ভাসে স্থির নহে মন ॥
কতদিনে গৌরচন্দ্র কৃপা বিতরিয়া ।
পার্ব্বতীরে দেখা দিলা সগণে আসিয়া ॥
সুতপ্ত কাঞ্চনবর্ণ দীর্ঘ কলেবর ।
মাথায় চাঁচর কেশ সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর ॥
ত্রিকচ্ছ করিয়া বস্ত্র তার পরিধান ।
গলে দোলে ফুলমালা অপূর্ব্ব বিধান ॥
প্রেমে গদ গদ বাক্য কহে গৌররায় ।
বলগো পার্ব্বতী কেন আইলে হেথায় ॥
জগতের প্রভু পদে পড়িয়া পার্ব্বতী ।
জানায় আপন দুঃখ স্থির নহে মতি ॥
ওহে প্রভু জগন্নাথ জগত জীবন ।
সকলের দয়াময় মোর বিড়ম্বন ॥
তব বহির্মুখ জীবে বন্ধন কারণ ।
নিযুক্ত করিলে মোরে পতিত পাবন ॥
আমি থাকি সেই কাজে সংসার পাতিয়া ।
তোমার অনন্ত প্রেমে বঞ্চিত হইয়া ॥
লোকে বলে যথা কৃষ্ণ মায়া নাই তথা ।
আমি তবে বহির্মুখ হইনু সর্ব্বথা ॥
কেমনে দেখিব প্রভু তোমার বিলাস ।
তুমি না করিলে পথ হইনু নৈরাশ ॥
এতবলি শ্রীপার্ব্বতী গৌর পদধূলী ।
সীমন্তে লইল সতী করিয়া আকুলী ॥
সেই হৈতে শ্রীসীমন্তদ্বীপ নাম হৈল ।
সিমুলীয়া বলি অজ্ঞ জনেতে কহিল ॥
শ্রীগৌরাঙ্গচন্দ্র তবে প্রসন্ন হইয়া ।
বলিল পার্ব্বতী শুন কথা মন দিয়া ॥
তুমি মোর ভিন্ন নও শক্তি সর্ব্বেশ্বরী ।
এক শক্তি দুই রূপ মম সহচরী ॥
স্বরূপশক্তিতে তুমি রাধিকা আমার ।
বহিরঙ্গা রূপে রাধা তোমাতে বিস্তার ॥
তুমি নৈলে মোর লীলা সিদ্ধ নাহি হয় ।
তুমি যোগ মায়া রূপে লীলাতে নিশ্চয় ॥
ব্রজে তুমি পৌর্ণমাসী রূপে নিত্য কাল ।
নবদ্বীপে পৌঢ়ামায়া সহ ক্ষেত্রপাল ॥
এতবলি শ্রীগৌরাঙ্গ হৈল অদর্শন ।
প্রেমাবিষ্ট হয়ে রহে পার্ব্বতীর মন ॥

সীমান্তিনীদেবী রূপে রহে একভিতে ।
প্রৌঢ়ামায়া মায়াপুরে রহে গৌর প্রীতে ॥
এত বলি নিত্যানন্দ কাজির নগরে ।
প্রবেশিল জীবে লয়ে তখন সত্বরে ॥
প্রভু বলে ওহে জীব শুনহ বচন ।
কাজির নগর এই মথুরা ভুবন ॥
হেথা শ্রীগৌরাঙ্গ রায় কীর্ত্তন করিয়া ।
কাজি নিস্তারিল প্রভু প্রেম রত্ন দিয়া ॥
শ্রীকৃষ্ণলীলায় যেই কংশ মথুরায় ।
গৌরাঙ্গলীলায় চাঁদকাজি নাম পায় ॥
এই জন্য প্রভু তারে মাতুল বলিল ।
ভয়ে কাজি গৌর পদে শরণ লইল ॥
কীর্ত্তন আরম্ভে কাজি মৃদঙ্গ ভাঙ্গিল ।
হোসেন সাহার বলে উৎপাত করিল ॥
হোসেনসা সে জরাসন্ধ গৌড় রাজ্যেশ্বর ।
তাহার আত্মীয় কাজি প্রতাপ বিস্তর ॥
প্রভু তারে নৃসিংহ রূপেতে দেয় ভয় ।
ভয়ে কংস সম কাজী জড় সড় হয় ॥
তারে প্রেম দিয়া কৈল বৈষ্ণব প্রধান ।
কাজির নিস্তার কথা শুনে ভাগ্যবান্ ॥
ব্রজতত্ত্ব নবদ্বীপ তত্ত্বে দেখ ভেদ ।
কৃষ্ণ অপরাধী লভে নির্ব্বাণ অভেদ ॥
হেথা অপরাধী পায় প্রেমরত্ন ধন ।
অতএব গৌরলীলা সর্ব্বোপরি হন ॥
গৌরধাম গৌরনাম গৌররূপ গুণ ।
অপরাধ নাহি মানে তারিতে নিপুণ ॥
যদি অপরাধ থাকে সাধকের মনে ।
কৃষ্ণনামে কৃষ্ণধামে তারে বহুদিনে ॥
গৌরনামে গৌরধামে সদ্য প্রেম হয় ।
অপরাধ নাহি তার বাধা উপযয় ॥
ঐ দেখ ওহে জীব কাজির সমাধি ।
দেখিলে জীবের নাশ হয় আধি ব্যাধি ॥
এতবলি নিত্যানন্দ প্রেমে গরগর ।
চলিলেন দ্রুত শঙ্খবণিক নগর ॥
তথা গিয়া শ্রীজীবেরে বলেন বচন ।
ওই দেখ শরডাঙ্গা অপূর্ব্ব দর্শন ॥
শ্রীশরডাঙ্গা নাম অতি মনোহর ।
জগন্নাথ বৈসে যথা লইয়া শবর ॥
পূর্ব্বে যবে রক্তবাহু দৌরাত্ম্য করিল ।
দয়িতা সহিত প্রভু হেথায় আইল ॥
শ্রীপুরুষোত্তম সম এই ধাম হয় ।
নিত্য জগন্নাথ স্থিতি তথায় নিশ্চয় ॥
তবে তন্তুবায়গ্রাম হইলেন পার ।
দেখিলেন খোলাবেচা শ্রীধর আগার ॥
প্রভু বলে এই স্থানে শ্রীগৌরাঙ্গ হরি ।
কীর্ত্তন বিশ্রাম কৈল ভক্তে কৃপা করি ॥
এই হেতু শ্রীবিশ্রামস্থান এর নাম ।
হেথা শ্রীধরের ঘরে করহ বিশ্রাম ॥
শ্রীধর শুনিল যবে প্রভু আগমন ।
সাষ্টাঙ্গে আসিয়া করে প্রভুর পূজন ॥
বলে প্রভু বড় দয়া এদাসের প্রতি ।
বিশ্রাম করহ হেথা আমার মিনতি ॥
প্রভু বলে তুমি হও অতি ভাগ্যবান ।
তোমারে করিল কৃপা গৌর ভাগবান ॥
অদ্য মোরা এই স্থানে করিব বিশ্রাম ।
শুনিয়া শ্রীধর তবে হয় আপ্তকাম ॥
বহুযত্নে সেবাযোগ্য সামগ্রী লইয়া ।
রন্ধন করায় ভক্ত ব্রাহ্মণেরে দিয়া ॥
নিতাই শ্রীবাস সেবা হৈলে সমাপন ।
আনন্দে প্রসাদ পায় শ্রীজীব তখন ॥
নিত্যানন্দে খট্টোপরি করায় শয়ন ।
সবংশে শ্রীধর করে পাদ সম্বাহন ॥
অপরাহ্ণে শ্রীজীবেরে লইয়া শ্রীবাস ।
ষষ্টিতীর্থ দেখাইল হইয়া উল্লাস॥
শ্রীবাস কহিল শুন জীব সদাশয় ।
পূর্ব্বে দেবগণ যবে শুনিল নিশ্চয় ॥
নবদ্বীপে হবে মহাপ্রভু অবতার ।
বিশ্বকর্ম্মা আইলেন নদীয়া নগর ॥
প্রভু যেই পথে করিবেন সঙ্কীর্ত্তন ।
সেই পথে জলকষ্ট করিতে বারণ ॥
এক রাত্রে ষাট কুণ্ড কাটিল বিশাই ।
শেষ কুণ্ড কাজিগ্রামে করিল কাটাই ॥
শ্রীধরের কলাবাগ দেখিতে সুন্দর ।
ইহার নিকটে এক দেখ সরোবর ॥
এই সরোবরে কভু করি জলখেলা ।
মহাপ্রভু লইলেন শ্রীধরের খোলা ॥
অদ্যাবধি মোচা থোড় লইয়া শ্রীধর ।
শ্রীশচীমাতাকে দেয় উল্লাস অন্তর ॥
ইহার নিকটে ময়ামারি নাম স্থান ।
দেখহ শ্রীজীব আজো আছে বিদ্যমান ॥
পৌরাণিক কথা এক করহ শ্রবণ ।
তীর্থযাত্রা বলদেব করিল যখন ॥
নবদ্বীপে আসি যবে করিল বিশ্রাম ।
বিপ্রগণ জানাইল ময়াসুর নাম ॥
ময়াসুর উপদ্রব শুনি হলধর ।
মহাবেগে ধরে তারে মাঠের ভিতর ॥
মহাযুদ্ধ কৈল দৈত্য বলদেব সাথ ।
অবশেষে রাম তারে করিল নিপাত ॥
সে অবধি ময়ামারি নাম খ্যাত হৈল ।
বহুকাল কথা আজ তোমারে কহিল ॥
তালবন নাম এই তীর্থ ব্রজপুরে ।
সদা ভাগ্যবান জন নয়নেতে স্ফুরে ॥
সেই রাত্রে সেই স্থানে থাকিলেন সবে ।
পরদিন যাত্রা করে হরি হরি রবে ॥
নিতাই জাহ্ণবা পদ ছায়া যার আশ ।
নদীয়া মাহাত্ম্য করে এ দাস প্রকাশ ॥

 


 

← Main page-এ ফিরে
← গ্রন্থাগারে ফিরে

 


শ্রীনবদ্বীপধাম
মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


এইগ্রন্থশিরোমণি শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এবং তাঁর শ্রীচরণের তৃপ্তির জন্য তাঁর অহৈতুক কৃপায় শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠ হইতে প্রকাশিত হয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শুভার্বিভাব তিথিতে শ্রীগৌরাব্দ ৫৩৪, বঙ্গাব্দ ১৪২৬, খৃষ্টাব্দ মার্চ্চ ২০২০ ।


সূচীপত্র:

শ্রীগৌরধাম ও শ্রীভক্তিবিনোদ

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য
(১) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন
(২) শ্রীশ্রীগৌড়মণ্ডল ও শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের বাহ্যস্বরূপ ও পরিমাণ
(৩) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি
(৪) শ্রীজীবের আগমন ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপতত্ত্ব বলেন
(৫) শ্রীমায়াপুর ও শ্রীঅন্তর্দ্বীপের কথা
(৬) শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন
(৭) শ্রীসুবর্ণবিহার ও শ্রীদেবপল্লী বর্ণন
(৮) শ্রীহরিহরক্ষেত্র, শ্রীমহাবারাণসী ও শ্রীশ্রীগোদ্রুমদ্বীপ বর্ণন
(৯) শ্রীমধ্যদ্বীপ ও নৈমিষ বর্ণন
(১০) শ্রীব্রাহ্মণপুষ্কর, শ্রীউচ্চহট্টাদি দর্শন ও পরিক্রমা-ক্রম বর্ণন
(১১) শ্রীশ্রীকোলদ্বীপ, শ্রীসমুদ্রগড়, শ্রীচম্পাহট্ট ও শ্রীজয়দেব-কথা বর্ণনা
(১২) শ্রীশ্রীঋতুদ্বীপ ও শ্রীরাধাকুণ্ড বর্ণন
(১৩) শ্রীবিদ্যানগর ও শ্রীজহ্ণুদ্বীপ বর্ণন

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভজনকুটির (স্বানন্দ-সুখদা-কুঞ্জ)
শ্রীনৃসিংহপল্লী
শ্রীকোলদ্বীপ


বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥