আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি প্রণামী ENGLISH
 

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


—: শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য :—

অষ্টম অধ্যায় :
শ্রীহরিহরক্ষেত্র, শ্রীমহাবারাণসী ও শ্রীশ্রীগোদ্রুমদ্বীপ বর্ণন

(শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত)

 

জয় জয় জয় শ্রীশচীসুত ।
জয় জয় জয় শ্রীঅবধূত ॥
সীতাপতি জয় ভকতরাজ ।
গদাধর জয় ভক্ত সমাজ ॥
জয় নবদ্বীপ সুন্দর ধাম ।
জয় জয় জয় গৌর কি নাম ॥
নিতাই সহিত ভকতগণ ।
হরি হরি বলি চলে তখন ॥
ভাবে ঢল ঢল নিতাই চলে ।
প্রেমে আধ আধ বচন বলে ॥
ঝর ঝর ঝরে আঁখির জল ।
গোরা গোরা বলি হয় বিকল ॥
ঝক্­মক্ করে ভূষণ মাল ।
রূপে দশদিক হইল আল ॥
শ্রীবাস নাচিছে জীবের সনে ।
কভু কাঁদে কভু নাচে সঘনে ॥
আর যত সব ভকতগণ ।
নাচিতে নাচিতে চলে তখন ॥
অলকানন্দার নিকটে আসি ।
বলেন নিতাই আনন্দে ভাসি ॥
বিল্বপক্ষগ্রাম পশ্চিমে-ধরি ।
মন্দাকিনী আসে নদীয়া ঘেরি ॥
সুবর্ণবিহার দেখিলে যথা ।
মন্দাকিনী ছাড়ে অলকা তথা ॥
অলকানন্দার পূরব পারে ।
হরিহর ক্ষেত্র গণ্ডক ধারে ॥
শ্রীমূর্ত্তি প্রকাশ হইবে কালে ।
সুন্দর কানন শোভিবে ভালে ॥
অলকা পশ্চিমে দেখহ কাশী ।
শৈব শাক্ত সেবে মুকতি দাসী ॥
বারাণসী হতে এ ধাম পর ।
হেথায় ধূর্জ্জটী পিনাকধর ॥
গৌর গৌর বলি সদাই নাচে ।
নিজ জনে গৌর ভকতি যাচে ॥
সহস্র বরষ কাশিতে বসি ।
লভে সে মুকতি জ্ঞানেতে ন্যাসী ॥
তাহাত হেথায় চরণে ঠেলি ।
নাচেন ভকত গৌরাঙ্গ বলি ॥
নির্যাণ সময়ে এখানে জীব ।
কাণে গৌর বলি তারেণ শিব ॥
মহাবারাণসী এধাম হয় ।
জীবের মরণে নাহিক ভয় ॥
এত বলি তথা নিতাই নাচে ।
গৌর হরিপ্রেম জীবেরে যাচে ॥
অলক্ষে তখন কৈলাসপতি ।
নিতাই চরণে করিল নতি ॥
গৌরী সহ শিব গৌরাঙ্গ নাম ।
গাইয়া গাইয়া পূরয় কাম ॥
স্বতন্ত্র ঈশ্বর নিতাই তবে ।
ভকত সঙ্গেতে চলিল জবে ॥
গাদিগাছাগ্রামে পৌঁছিল আসি ।
তথায় আসিয়া কহিল হাসি ॥
গোদ্রুম নামেতে এদ্বীপ হয় ।
সুরভি সতত এখানে রয় ॥
কৃষ্ণ মায়া বসে দেবেন্দ্র যবে ।
ভাষায় গোকুল নিজ গৌরবে ॥
গোবর্দ্ধন গিরি ধরিয়া হরি ।
রক্ষিল গোকুল যতন করি ॥
ইন্দ্র দর্প চূর্ণ হইলে পর ।
শচীপতি চিনে সারঙ্গধর ॥
নিজ অপরাধ মার্জ্জন তবে ।
পড়িল কৃষ্ণের চরণ ধরে ॥
দয়ার সমুদ্র নন্দতনয় ।
ক্ষমিল ইন্দ্রেরে দিল অভয় ॥
তথাপি ইন্দ্রের রহিল ভয় ।
সুরভি নিকটে তখন কয় ॥
কৃষ্ণ লীলা মুই বুঝিতে নারি ।
অপরাধ মম হইল ভারি ॥
শুনেছি কলিতে ব্রজেন্দ্র সুত ।
করিবে নদীয়া লীলা অদ্ভূত ॥
পাছে সে সময় মোহিত হব ।
অপরাধী পুন হয়ে রহিব ॥
তুমিত সুরভি সকল জান ।
করহ এখন তাহার বিধান ॥
সুরভি বলিল চলহ যাই ।
নবদ্বীপধামে ভজি নিমাই ॥
দেবেন্দ্র সুরভি হেথায় আসি ।
গৌরাঙ্গ ভজন করিল বসি ॥
গৌরাঙ্গ ভজন সহজ অতি ।
সহজ তাহার ফল বিততি ॥
গৌরাঙ্গ বলিয়া ক্রন্দন করে ।
গৌরাঙ্গ দর্শন হয় সত্বরে ॥
কিবা অপরূপ রূপলাবণি ।
দেখিল গৌরাঙ্গ প্রতিমা খানি ॥
আধ আধ হাসি বরদ রূপ ।
প্রেমে গদগদ রসের কূপ ॥
হাঁসিয়া বলেন ঠাকুর মোর ।
জানিনু বাসনা অমিত তোর ॥
অল্পদিন আছে প্রকট কাল ।
নদীয়ানগরে দেখিবে ভাল ॥
সে লীলা সময়ে সেবিবে মোরে ।
মায়াজাল আর না ধরে তোরে ॥
এতবলি প্রভু অদৃশ্য হয় ।
সুরভি সুন্দরী তথায় রয় ॥
অশ্বত্থ নিকটে রহিলা দেবী ।
নিরন্তর গৌরচরণ সেবি ॥
গোদ্রুমদ্বীপ ত হইল নাম ।
হেথায় পূরয় ভকত কাম ॥
হেথায় কুটীর বাঁধিয়া ভজে ।
অনায়াসে গৌরচরণে মজে ॥
এই দ্বীপে কভু মৃকণ্ডসুত ।
প্রলয়ে আছিল কথা অদ্ভুত ॥
সাতকল্প আয়ু পাইল মুনি ।
প্রলয়ে বড়ই বিপদ গণি ॥
জলময় হৈল সমস্ত স্থান ।
কোথা বা রহিবে করে সন্ধান ॥
ভাসিয়া ভাসিয়া চলিয়া যায় ।
কেন হেন বর লইনু হায় ॥
ষোলক্রোশ মাত্র নদীয়াধাম ।
জাগিয়া ভকতে দেয় বিশ্রাম ॥
জলের তরঙ্গে ভাসিয়া মুনি ।
অজ্ঞান হইয়া পড়ে অমনি ॥
মহা কৃপা করি সুরভি তায় ।
যতনে মুনিরে হেথা উঠায় ॥
সম্বিত লভিয়া মৃকণ্ডসুত ।
দেখিল গোদ্রুমদ্বীপ অদ্ভুত ॥
শতকোটীক্রোশ বিস্তার স্থান ।
নদনদী শোভা প্রকাশ মান ॥
তরুলতা কত শোভয় তথা ।
পক্ষীগণ গায় শ্রীগৌরগাথা ॥
যোজন বিস্তার অশ্বত্থ হের ।
সুরভিকে তথা দর্শনকর ॥
ক্ষুধায় আকুল মুনি তখন ।
সুরভির প্রতি বলে বচন ॥
তুমি ভগবতি রাখহ প্রাণ ।
দুগ্ধ দিয়া মোরে করহ ত্রাণ ॥
সুরভি তখন সদয় হয়ে ।
পিয়াইল দুগ্ধ মুনিরে লয়ে ॥
সবল হইয়া মৃকণ্ডসূনু ।
সুরভির প্রতি কহয় পুন ॥
তুমি ভগবতি জননী মোর ।
তোমার মায়ার জগত ভোর ॥
না বুঝিয়া আমি লয়েছি বর ।
সপ্তকল্প জীব হয়ে অমর ॥
প্রলয় সময়ে বড়ই দুখ ।
নানাবিধ ক্লেশ নাহিক সুখ ॥
কি করি জননী বলগো মোরে ।
কিসে বা যাইব এ দুখ তরে ॥
সুরভি তখন বলিল বাণী ।
ভজহ শ্রীগৌরপদ দুখানি ॥
এই নবদ্বীপ প্রকৃতি পার ।
কভু নাশ নাহি হয় ইহার ॥
চর্ম্ম চক্ষে ইহা ষোড়শক্রোশ ।
পরম বৈকুণ্ঠ সদা নির্দ্দোষ ॥
অপ্রাকৃত দেশ কাল এখানে ।
জড় মায়া কেবা কেহ না জানে ॥
নয়দ্বীপে দেখ অপূর্ব্ব অতি ।
চারি দিকে বেড়ে বিরজা সতী ॥
শতকোটীক্রোশ প্রত্যেক খণ্ড ।
মধ্যে মায়াপুর নগর গণ্ড ॥
অষ্টদল অষ্টদ্বীপের মান ।
অন্তর্দ্বীপ তার কেশর স্থান ॥
সর্ব্ব তীর্থ সর্ব্ব দেবতা ঋষি ।
গৌরাঙ্গ ভজিছে হেথায় বসি ॥
তুমি মার্কণ্ডেয় গৌরাঙ্গপদ ।
আশ্রয় করহ জানি সম্পদ ॥
অকৈতব ধর্ম্ম আশ্রয় কর ।
ভুক্তি মুক্তি বাঞ্ছা সুদূরে ধর ॥
গৌরাঙ্গ ভজন আশ্রয় বলে ।
মধুর প্রেমত লভিবে ফলে ॥
সেই প্রেম যবে হৃদয়ে বসে ।
ভাসায় বিলাস কলার রসে ॥
ব্রজে রাধা পদ আশ্রয় হয় ।
যুগল সেবায় মানস রয় ॥
সেবার সুখ অতুল জান ।
অভেদ নির্ব্বাণে অপার্থ জ্ঞান ॥
সুরভি বচন শুনিয়া মুনি ।
করযোড় করি বলে অমনি ॥
শ্রীগৌরচরণ ভজিব যবে ।
আমার অদৃষ্ট কোথায় রবে ॥
সুরভি কহিল সিদ্ধান্ত সার ।
শ্রীগৌর ভজনে নাহি বিচার ॥
শ্রীগৌর বলিয়া ডাকিবে যবে ।
সমস্ত করম বিনাশ হবে ॥
কিছু নাহি রবে বিপাক আর ।
ঘুচিবে তোমার ভব সংসার ॥
কর্ম্ম কেনে একা জ্ঞানের ফল ।
ঘুচিবে সমূলে হয়ে বিকল ॥
তুমিত মজিবে গৌরাঙ্গ রসে ।
ভজিবে তাঁহারে এদ্বীপে বসে ॥
মার্কণ্ডেয় শুনি আনন্দে ভাসে ।
গৌর বলি কাঁদে কখন হাঁসে ॥
এই দেখ জীব অপূর্ব্ব স্থান ।
মার্কণ্ডেয় যথা পাইল প্রাণ ॥
গৌরাঙ্গ মহিমা নিতাই মুখে ।
শুনি জীব ভাসে পরম সুখে ॥
সে স্থানে সে দিন যাপন করি ।
মধ্যদ্বীপে চলে বলিয়া হরি ॥
নিতাই জাহ্ণবা চরণ সার ।
জানিয়া ভক্তিবিনোদ ছার ॥
নিতাই আদেশ মস্তকে ধরে ।
নদীয়া মহিমা বর্ণন করে ॥


 


 

← Main page-এ ফিরে
← গ্রন্থাগারে ফিরে

 


শ্রীনবদ্বীপধাম
মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


এইগ্রন্থশিরোমণি শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এবং তাঁর শ্রীচরণের তৃপ্তির জন্য তাঁর অহৈতুক কৃপায় শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠ হইতে প্রকাশিত হয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শুভার্বিভাব তিথিতে শ্রীগৌরাব্দ ৫৩৪, বঙ্গাব্দ ১৪২৬, খৃষ্টাব্দ মার্চ্চ ২০২০ ।


সূচীপত্র:

শ্রীগৌরধাম ও শ্রীভক্তিবিনোদ

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য
(১) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন
(২) শ্রীশ্রীগৌড়মণ্ডল ও শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের বাহ্যস্বরূপ ও পরিমাণ
(৩) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি
(৪) শ্রীজীবের আগমন ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপতত্ত্ব বলেন
(৫) শ্রীমায়াপুর ও শ্রীঅন্তর্দ্বীপের কথা
(৬) শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন
(৭) শ্রীসুবর্ণবিহার ও শ্রীদেবপল্লী বর্ণন
(৮) শ্রীহরিহরক্ষেত্র, শ্রীমহাবারাণসী ও শ্রীশ্রীগোদ্রুমদ্বীপ বর্ণন

(৯) শ্রীমধ্যদ্বীপ ও নৈমিষ বর্ণন
(১০) শ্রীব্রাহ্মণপুষ্কর, শ্রীউচ্চহট্টাদি দর্শন ও পরিক্রমা-ক্রম বর্ণন
(১১) শ্রীশ্রীকোলদ্বীপ, শ্রীসমুদ্রগড়, শ্রীচম্পাহট্ট ও শ্রীজয়দেব-কথা বর্ণনা
(১২) শ্রীশ্রীঋতুদ্বীপ ও শ্রীরাধাকুণ্ড বর্ণন
(১৩) শ্রীবিদ্যানগর ও শ্রীজহ্ণুদ্বীপ বর্ণন

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভজনকুটির (স্বানন্দ-সুখদা-কুঞ্জ)
শ্রীনৃসিংহপল্লী
শ্রীকোলদ্বীপ


বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥