আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি ENGLISH
 

গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি (সন্ধ্যা)

শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁবিষ্ণুপাদ
শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত
ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজের আবির্ভাব তিথি
নৃসিংহপল্লী, ১ জানুয়ারি ২০২১, সন্ধ্যা

 

(১) ভগবানকে জানা, ভকগবানকে প্রীতি করা


আজকে আপনারা শ্রীলগুরুমহারাজের তিরোভাব উৎসব ঠিকমত পালন করেছেন । আমার খুব আনন্দ হয় যখন আমরা গুরুদেবের উৎসব শুষ্ঠভাবে, সুন্দরভাবে পালন করতে পারি । আপনারা চলে এসেছিলেন আর যে ভাবে সেবা করেছেন, কেউ অংশ গ্রহণ করেছেন, কেউ সেবা না করতে পেরে এখানে বসে হরিকথা শ্রবণ ও কীর্ত্তন করেছেন, এতেই আমার খুশি, এতেই ভগবান্ আপনাদের কৃপা ও মঙ্গল করবেন । এটাই আমি চাই যেন আপনাদের মঙ্গল হবে । আমি অত্যান্ত খুশি হই যে, গুরুদেবের সেবা ও উৎসব যারা ভালোভাবে অংশ গ্রহণ করে আসলেন ।

আপনারা সবাই এই তিথিকে অবলম্বন করে এখানে উপস্থিত হয়েছেন । আপনারা মনে করছেন, “উৎসব শেষ হয়ে গেছে, মহারাজ হয়ত বলবেন যে, চলে যান ।” না । এই উৎসবের পরে পরশুদিনকেও গুরুদেব সব সময় পালন করতেন : গুরুদেবের আবির্ভাব তিথি হয়ে যাওয়ার পরে আর এক দিন মাঝখানেতে পরের দিন, অর্থাৎ রবিবারে, প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তিরোভাব তিথি ।

শ্রীল প্রভুপাদের ছবিটা ডান দিকে দেখতে পান । আপনারা অনেকে তাকে চিন্তা পারছেন না । গুরু-পরম্পরা সবায়ের বাড়িতে দেওয়া আছে তবে অনেকে তাঁদের নাম জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারে না । অনেকে জয় দিতে পারে না । এগুলো শিখবেন ভালো করে । একবার করে যদি গুরুবর্গের জয় দেন, সেটা কাজ নয় । প্রত্যেক দিন গুরুবর্গের জয় দিলে তাতে আপনাদের হৃদয়ে ভক্তি বসানো হবে, প্রীতি পাবেন । অনেকে গুরুবের্গের জয় দিতে পারেন না : গুরুবর্গের নাম ভালো করে ধরে জয় দিতে পারে না । গুরুদেবের নাম বললে ভালো করে বলতে পারেন না । বাড়িতে স্ত্রী, পুত্র, স্বামী, বন্ধু-বান্ধব সবায়ের নাম আপনারা ভালো করে জানেন কিন্তু গুরুবর্গের নাম ভালো করে জানেন না । এমনকি হরেকৃষ্ণ নামও ভালো করে গাইতে পারেন না ।

যাকগে, গুরুদেবের উৎসবে আপনারা যোগদান করেছেন । শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তেমনই তিরভাব তিথি পরশুদিনটা । সেদিনটা আমরা মঠে যারা থাকবেন তাদেরকে নিয়ে উৎসব করব । থাকুন, কোন আপত্তি নেই । যারা থাকবেন বাড়ি-ঘড় ছেড়ে দিয়ে এসে থাকতে তো বলি না কিন্তু কয়েক দিন থাকুন । মঠে থাকুর । এই সংসারটাকে নিজের সংসারের মত মনে করুন ।

বিষয়ে যে প্রীতি এবে আছয়ে আমার ।
সেই মত প্রীতি হউক চরণে তোমার ॥

(শ্রীগীতাবলী, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)

কথার অর্থাটা বুঝুন । আমাদের বাড়ি, ঘর, স্ত্রী, পুত্র, বন্ধু-বান্ধবের প্রতি যেরকম আমরা স্নেহ ও প্রীতি করি, সেই প্রীতি যেন ভগবানের প্রতি হয় । সে দিন কবে হবে ? সে দিন ততদিন পর্যন্ত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই সংসারে বারবার করে আসতে হবে । আজকে সাধুদের কথা শুনলেন । আমি একলা বললে না হয়, বিশ্বাস হয় না, কিন্তু সব সাধুরা এক কথাই বললেন, তাই তো ? কেউ কম বলেছেন, কেউ বেশি বলেছেন, কিন্তু সবাই একই কথা বলেছেন । আমরা এই সংসারে মায়াবদ্ধ হয়ে পড়েছি :

সংসার সংসার করি মিছে গেল কাল ।
লাভ না হইল কিছু ঘটিল জঞ্জাল ॥

কিসের সংসার এই, ছায়াবাজী প্রায় ।
ইহাতে মমতা করি বৃথা দিন যায় ॥

দিন যায় মিছা কাজে নিশা নিদ্রাবশে ।
নাহি ভাবি মরণ নিকটে আছে বসে ॥

(শ্রীকল্যাণকল্পতরু, শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)

 

 

 


 

 

← ফিরে

সম্পূর্ণ পাঠ ডাউনলোড / শুনুন
(39 Mb, 80 min)

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥