![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (দ্বিতীয় খণ্ড) ৫। সাধ্যবস্তুর মূল : ছয় গুণ
ছয় গুণটা কী ? মন দিয়ে শুনুন । উৎসাহ । যেমন ভক্তগণ উৎসাহ করে আমাকে এখানে ডেকেছেন আর আপনাদের সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছেন, “আসুন, আপনারা গুরুদেবের কাছ থেকে হরিকথা শুনবেন আর প্রসাদ পেয়ে যাবেন ।” এটা হচ্ছে উৎসাহ । “গুরুদেব বছরের মধ্যে একবার আসেন, আপনারা সবাই আসবেন ।”, “আমি ঠাকুরের সেবা করব, ভক্ত সেবা করব”—সেইটা উৎসাহ, আগ্রহ । ভক্তির অনুষ্ঠানে উৎসাহ থাকতে চাই—অকাজ-কুকাজে উৎসাহ নয়, সেটা খারাপ জিনিস । ভক্তির কাজে উৎসাহ থাকতে হবে । নিশ্চয় । এটা মানে দৃঢ় বিশ্বাস । বিশ্বাসটা হচ্ছে মুখ্য । আমি যখন জন্ম নিয়েছিলাম তখন আমার মা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিল, “এটা তোর বাবা ।” বাবাকে কে চিনিয়েছে ? মা চিনিয়েছে । সত্য কথা না মিথ্যা কথা সেটা মাই জানে । মা যখন বলে দিচ্ছে এটা তোর বাবা, আমরা বিশ্বাস করে নিচ্ছি । ভগবানের প্রতি এরকম দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে । ধৈর্য্য । কেউ ভাবছে, “অনেক দিন আগে দীক্ষা নিলাম, পনের, চিশ বা ত্রিশ বছর হয়ে গেল । গুরুদেব তো বলেছেন ষোলবার হরিনাম করতে হবে, আর আমি আরও বেশি করছি কিন্তু ফলটা পাচ্ছি না । উহু, আর করব না !” আর তখন আস্তে আস্তে অনুশীলনটা কমিয়ে দেয়—ধৈর্য্য কম বা নেই, টলারেন্স (সহিষ্ণুতা) নেই… এটা চলবেন না । ভক্তিপোষক কর্ম্ম—শ্রবণ-কীর্ত্তনাদি এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্য নিজের ভোগ-সুখ পরিত্যাগ করা । সঙ্গত্যাগ । কাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলেছে ? প্রথম অধর্ম্মের সঙ্গ, তারপর স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করতে হবে—স্ত্রীসঙ্গ মানে পরের স্ত্রীর সঙ্গ, নিজের স্ত্রী নয় । যারা পরের স্ত্রীর সঙ্গ করে, তাদের সঙ্গ করবেন না, আর যে বিবাহিত পুরুষ অবৈধ সঙ্গ করে (পরের স্ত্রীর সঙ্গ করে), আপনি তার সঙ্গ করবেন না, তার মুখও দেখবেন না । স্ত্রৈণ—যারা স্ত্রীর বশীভূত, ওদের সঙ্গ করতে নেই । মায়াবাদীর কাছ থেকেও দূরে থাকতে হবে (যারা নাস্তিক, যারা ভগবানের আকার নেই বলে) । ভগবান্ আপনাদের দুটো চোখ, দুটো কান, দুটো নাসারন্ধ্র, দুটো পা, দুটো হাত দিয়েছেন আর আপনারা বলেন “ভগবান্ নেই” বা “ভগবানের আকার নেই” । এক ধনী লোকের কাছ থেকে কিছু পয়সা ধার নিলেন আপনারা কিছু দিন পরে বললেন যে, “লোকটার কোন টাকা নেই”—যার কাছ থেকে টাকা ধার নিলেন আপনারা বলছেন ওর টাকা নেই ! তাই ভগবানও আমাদেরকে হাত, পা, নাক, চোখ, সব দিয়েছেন আর আমরা কেন বলছি ভগবানের আকার নেই ? এই রকম কিছু সম্প্রদায় আছে, তারা মায়াবাদী, নিরীশ্বর—তারা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে না । তাদের সঙ্গ করতে নেই । সদ্বৃত্তি—সাধুগণ যে বৃত্তির দ্বারা জীবন নির্ব্বাহ করে সেই বৃত্তি স্বীকার করতে হবে । আপনারা বাড়িতে অষ্টপ্রহর, পালা-কীর্ত্তন, লীলা-কীর্ত্তন ব্যবস্থা করেন—তারা ওসব কীর্ত্তন করে কিসের জন্য ? পয়সা উপার্জন করবার জন্য । তারা হরিনামকে বিক্রি করে । যখন কোন বাড়িতে একদিন কীর্ত্তন হয়, তখন লোকে নিরামিষ খায় (আলুর দম, তরকারি, ছোলার ডাল, লুচি-টুচি খায়) আর অন্য সময় আজেবাজে বা অমেধ্য খাবার খায় । আর ওরা বাড়িতে দুঘন্টা কীর্ত্তন করল, কিছু টাকা নিয়ে গেল আর সেটাকা দিয়ে মদ, গাঁজা, বিড়ি, সিগারেট খায় । এতে আপনাদের কি মঙ্গল হবে ? সাধুগণ যেভাবে জীবন ধারণ করছেন সেইভাবে আপনাদেরকেও জীবন ধারণ করতে হবে । যদি কোন ‘সাধু’ আপনাদের কাছে গিয়ে বলেন, “আমাকে টাকা পয়সা দিতে হবে,” “আমাকে গাড়ি দিতে হবে,” “এ দিতে হবে,” “সে দিতে হবে,” “অমুক দিতে হবে,” “তমুক দিতে হবে”—এসব সত্যিকারের সাধুরা করেন না । একঘন্টা কীর্ত্তন করলে ১০০০ টাকা দিতে হবে, দুঘন্টা কীর্ত্তন করলে ২০০০ টাকা দিতে হবে—এরকম কোন কাজ সত্যিকারের সাধুরা করতে পারেন না । এরা নিজেরা ব্যাবসা করার জন্য এসব করে, এরকম লোকের সঙ্গ করতে নেই । এটা সদ্বৃত্তি নয়, এটা অসদ্বৃত্তি আচরণ । যে ভগবানের নাম করে, ভগবানের পূজা করে পয়সার বিনিময়ে, তাদের সঙ্গ কিছু মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না । এটা হচ্ছে “নাম বলে পাপাচার” : “আমি ৩৬৪ দিন হরিনাম করব না, আর বছরে একদিন একটু ভাড়াটিয়া দল নিয়ে কীর্ত্তন দেব—আমার পাপ সব চলে যাবে ।” এই বুদ্ধি করে যারা হরিনাম দেয় আর যারা হরিনাম করে উভয়েই নরকগামী প্রাপ্ত হয় । এই অষ্টপ্রহর-কীর্ত্তনগুলা আর লীলা-কীর্ত্তনগুলা বন্ধ করতে হবে । ওইসব নাম বলে পাপাচার । যে তা করবে তাতে তার পাপ (অপরাধ) হবে, তাতে ক্ষতি হবে । এগুলো ইমিডিয়েটলি (অবিলম্বে) বন্ধ করতে হবে । বন্ধ না করলে এগুলো আপনাদের মঙ্গল বয়ে আনবে না । এটা শাস্ত্রের কথা । সেই কথাগুলা শুনে চলতে হবে, সেই কথাগুলা মনে রাখতে হবে । আপনাদের নিজে কীর্ত্তন করতে হবে । আমি এসেছি কী জন্য ? জীবকে দয়া করতে এসেছি । আপনাদের বাড়িতে কীর্ত্তন করতে হবে । আপনারা নিজে সারা দিন কীর্ত্তন করবেন । বাড়িতে বসে, খাইতে, শুইতে, বসতে—সব সময় “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ” করবেন ।
— • • • —
|
|||||||