আমাদের শ্রীগুরুপরম্পরা :
শ্রীশ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিসুন্দর গোবিন্দ দেবগোস্বামী মহারাজ শ্রীশ্রীল ভক্তিরক্ষক শ্রীধর দেবগোস্বামী মহারাজ ভগবান্ শ্রীশ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর
              প্রভুপাদ
“শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠে সূর্যাস্ত কখনই হয় না” :
আমাদের মঠের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য
 
আমাদের সম্পর্কে শ্রীউপদেশ শ্রীগ্রন্থাগার শ্রীগৌড়ীয় পঞ্জিকা ছবি ENGLISH
 

শ্রীউপদেশ (দ্বিতীয় খণ্ড)


৮। অভিমানের পরিবর্তন

 

অভিমান ছাড়তে হবে । তা না ছাড়লে হবে না । ভজন করতে করতে, সেবা করতে করতে অভিমান চলে যাওয়া উচিত । যদি সেবা করতে করতে অভিমান চলে না যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, সেবা হচ্ছে না । আমাদের অভিমান কেন ছেড়ে দিতে হবে ? অভিমানবুদ্ধি সব কিছু আমাদের নষ্ট করে দেয় এবং সেবা থেকে বিচ্যুত করে দেয় । কেউ এতদিন ধরে সেবা করে ভাবছে, “আমি অনেক দিন ধরে মঠের মালিক ছিলাম ! আমি এত বড় সেবা করেছি !” কিন্তু আসলে আমাদের ভাবতে হবে, “প্রভু, আমি তোমার সেবক মাত্র ।”

আমরা ভোগীও নই, ত্যাগীও নই : আমরা ভোগও করব না, ত্যাগও করব না । আমরা মাঝখানেতে : সেবী বা সেবক । আমাদের নিজেকে সেবক বলে ভাবতে হবে । আমরা ম্যানেজারও নই, মঠের ইন-চার্জও নই, আমরা সবাই সেবক—ভগবান্ কৃপা করে সেবা নিচ্ছেন, তাই ভাল । এটা না বুঝলে আমাদের কিন্তু বিপদ আছে ।

আপনারা অনেক দিন ধরে এখানে অনেক কিছু পাঠে শুনেছেন, কিন্তু এখনও ঠিক মত সঠিক নিষ্ঠা ও সতীত্বতা (চেষ্টিটি) আপনাদের মধ্যে আসেনি  । প্রথমে নিষ্ঠা আসতে হবে, নিষ্ঠার পরে আসক্তি, আসক্তির পরে রুচি । এইসব করতে করতে তারপর সতীত্ব (চেষ্টিটি) হয় । সেইটা খুবই কম লোকের থাকে । খুবই কম লোকই আছে যার ভাব, “তাঁর ছাড়া কিছুই জানি না, তাঁর ছাড়া কিছুই বুঝি না ।” ব্রজগোপীদের সেইরকম ভাব, সেইরকম ভাবটা আমাদের হৃদয়েও আসতে হবে ।

আপনারা নিজেরাই একটু চিন্তা ভাবনা করতে পারেন : কেন এই পথে আসব ? কেন হরিনাম করব ? কেন ভজন করব ? কেন ভগবানের সেবা করব ? এটা নিজেকে দিয়ে বিচার করতে হবে ।

চিন্তা করুন । আমি আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে পারি : আপনারা এই জগতে প্রত্যেক দিন কত লক্ষ লক্ষ জীবকে হত্যা করে বেঁচে আছেন, বলুন ? যখন আমরা শ্বাসপ্রশ্বাস করছি—শ্বাস নিচ্ছি, শ্বাস বেরিয়ে চলে যাচ্ছে—তখন কত জীবাণু শেষ হয়ে যাচ্ছে, কত জীবাণু আমরা মেরে ফেলছি ! আপনারা যখন ভাত খাচ্ছেন বা সবজি কাটছেন, তখন কত গাছকে হত্যা করে বেঁচে আছেন । আপনারা বাঁধাকপিই খান, ফুলকপিই খান, ডাঁটাই খান, শাকই খান—কিন্তু আপনারা গাছকে হত্যা করে খেয়ে বেঁচে আছেন । জল পান করে কত জীবকে আমরা খেয়ে শেষ করে দিচ্ছি । যখন নিজের জন্য রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, তখন কত পিপীলিকা মেরে ফেলেছি বা যখন গাড়িতে করে যাচ্ছি গাড়ির চাকার তলায় কত পশুপাখি, কত কিছু সাপ ব্যাঙ ইত্যাদি মরে যাচ্ছে । এর জন্য আপনারাই দায়ী ।

এসব পাপের ফল আপনাদের জন্মে জন্মে ভোগ করতে হবে । এই জন্মে যা আমরা পাপ করছি, পরের জন্মে সেই পাপের ফল ভোগ করতে হবে (সেটা এই জন্মে হতে পারে, পরের জন্মেও হতে পারে) । এই পাপ থেকে রেহাই পাওয়া একমাত্র উপায়টা কী ? সেটাও শ্রীমদ্ভাগবতম্ বলেছেন (১/১/২):

পৃথিবীতে যত কথা ধর্ম্মনামে-চলে ।
ভাগবত কহে সব পরিপূর্ণ ছলে ॥

নিজের জীবন আপনারা পরিবর্তন করতে পারেন । আপনারা যেগুলো কাজ করছেন সেগুলো করতে বারণ করিনি (“গৃহে থাক, বনে থাক সদা ‘হরি’ বলে ডাক”) । আপনারা জীবনটাকে গোবিন্দের সেবায় লাগাতে পারেন । কেউ সংসারে আছে, কেউ মঠে আছে, কেউ একা বাস করে—যদি রান্না করে ঠাকুরকে ভোগ দিয়ে প্রসাদ পান, তাহলে আপনাদের পরমকল্যাণ বস্তু লাভ হবে । ঠাকুরকে ভোগ দিয়ে তাঁর প্রসাদ পেলে তাহলে আপনাদের যত পাপ আছে সেগুলো আর থাকবে না । “প্রসাদ-সেবা করিতে হয় সকল প্রপঞ্চ জয় ।” প্রপঞ্চ কী কী ? মনে আছে ?…

 

— • • • —

 

 

← ৭। শ্রীল জগন্নাথদাস বাবাজী মহারাজের চিত্তবৃত্তি