শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


—: শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য :—

তৃতীয় অধ্যায় :
শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি

(শ্রীশ্রীল সচ্চিদানন্দ ভক্তিবিনোদ ঠাকুর রচিত)

 

জয় জয় নবদ্বীপচন্দ্র শচীসুত ।
জয় জয় নিত্যানন্দরায় অবধূত ॥
জয় জয় শ্রীঅদ্বৈত প্রভু মহাশয় ।
গদাধর শ্রীবাস পণ্ডিত জয় জয় ॥
জয় জয় নবদ্বীপধাম সর্ব্বধাম সার ।
যেই ধাম সহ গৌরচন্দ্র অবতার ॥
ষোলক্রোশ নবদ্বীপ মধ্যে যাহা যাহা ।
বর্ণিব এখন ভক্তগণ শুন তাহা ॥
ষোলক্রোশ মধ্যে নবদ্বীপের প্রমাণ ।
ষোড়শ প্রবাহ তথা সদা বিদ্যমান ॥
মূল-গঙ্গা পূর্ব্বতীরে দ্বীপ চতুষ্টয় ।
তাঁহার পশ্চিমে সদা পঞ্চদ্বীপ রয় ॥
স্বর্ধুনী প্রবাহ সব বেড়ি দ্বীপগণে ।
নবদ্বীপ ধামে শোভা দেয় অনুক্ষণে ॥
মধ্যে মূল গঙ্গাদেবী রহে অনুক্ষণ ।
অপর প্রবাহে অন্য পুণ্য নদীগণ ॥
গঙ্গার নিকটে বহে যমুনা সুন্দরী ।
অন্য ধারা মধ্যে সরস্বতী বিদ্যাধরী ॥
তাম্রপর্ণী কৃতমালা ব্রহ্মপুত্র ত্রয় ।
যমুনার পূর্ব্বভাগে দীর্ঘ ধারাময় ॥
সরযু নর্ম্মদা সিন্ধু কাবেরী গোমতী ।
প্রস্থে বহে গোদাবরী সহ দ্রুতগতি ॥
এই সব ধারা পরস্পর করি ছেদ ।
এক নবদ্বীপে নববিধ করে ভেদ ॥
প্রভুর ইচ্ছায় কভু ধারা শুষ্ক হয় ।
পুন ইচ্ছা হৈলে ধারা হয় জলময় ॥
প্রভুর ইচ্ছায় কভু ডুবে কোন স্থান ।
প্রভুর ইচ্চায় পুন দেয়ত দর্শন ॥
নিরবধি এইরূপ ধাম লীলা করে ।
ভাগ্যবান জনপ্রতি সর্ব্বকাল স্ফুরে ॥
উৎকট বাসনা যদি ভক্ত হৃদে হয় ।
সর্ব্বদীপ সর্ব্বধারা দর্শন মিলয় ॥
কভু স্বপ্নে কভু ধ্যানে কভু দৃষ্টি যোগে ।
ধামের দর্শন পায় ভক্তির সংযোগে ॥
গঙ্গা যমুনার যোগে যেই দ্বীপ রয় ।
অন্তর্দ্বীপ তার নাম সর্ব্বশাস্ত্রে কয় ॥
অন্তর্দ্বীপ মধ্যে আছে পীঠ মায়াপুর ।
যথায় জন্মিল প্রভু চৈতন্য ঠাকুর ॥
গোলকের অন্তবর্ত্তী যেই মহাবন ।
মায়াপুর নবদ্বীপে জান ভক্তগণ ॥
শ্বেতদ্বীপ বৈকুণ্ঠ গোলক বৃন্দাবন ।
নবদ্বীপে সব তত্ত্ব আছে সর্ব্বক্ষণ ॥
অযোধ্যা মথুরা মায়া কাশী কাঞ্চী আর ।
অবন্তী দ্বারকা সেই পুরী সপ্ত সার ॥
নবদ্বীপে সে সমস্ত নিজ নিজ স্থানে ।
নিত্য বিদ্যমান গৌরচন্দ্রের বিধানে ॥
গঙ্গাদ্বার মায়ার স্বরূপ মায়াপুর ।
যাহায় মাহাত্ম্য শাস্ত্রে আছয়ে প্রচুর ॥
সেই মায়াপুর যেই যায় একবার ।
অনায়াসে হয় সেই জড়ামায়া পার ॥
মায়াপুরে ভ্রমিলে মায়ার অধিকার ।
দূরে যায়, জন্ম কভু নহে আরবার ॥
মায়াপুর উত্তরে সীমন্তদ্বীপ হয় ।
পরিক্রমা বিধি সাধু শাস্ত্রে সদা কয় ॥
অন্তর্দ্বীপে মায়াপুর করিয়া দর্শন ।
শ্রীসীমন্তদ্বীপে চল বিজ্ঞ ভক্তজন ॥
গোদ্রুমাখ্য দ্বীপ হয় মায়ার দক্ষিণে ।
তাহা ভ্রমি চল মধ্যদ্বীপে হৃষ্টমনে ॥
এই চারিদ্বীপ জাহ্ণবীর পূর্ব্বতীরে ।
দেখিয়া জাহ্ণবী পার হও ধীরে ধীরে ॥
কোলদ্বীপ অনায়াসে করিয়া ভ্রমণ ।
ঋতুদ্বীপে শোভা তবে কর দরশন ॥
তারপর জহ্ণুদ্বীপ পরমসুন্দর ।
দেখি মোদদ্রুমদ্বীপে চল বিজ্ঞবর ॥
রুদ্রদ্বীপ দেখ পুন গঙ্গা হও পার ।
ভ্রমি মায়াপুর ভক্ত চল আর বার ॥
তথায় শ্রীজগন্নাথ শচীর মন্দিরে ।
প্রভুর দর্শনে প্রবেশহ ধীরে ধীরে ॥
সর্ব্বকালে এইরূপ পরিক্রমা হয় ।
জীবের অনন্ত সুখ প্রাপ্তির আলয় ॥
বিশেষত মাকরী সপ্তমী তিথি গতে ।
ফাল্গুনী পূর্ণিমাবধি শ্রেষ্ঠ সর্ব্বমতে ॥
পরিক্রমা সমাধিয়া যেই মহাজন ।
জন্মদিনে মায়াপুর করেন দর্শন ॥
নিতাই গৌরাঙ্গ তারে কৃপা বিতরিয়া ।
ভক্তি অধিকারী করে পদছায়া দিয়া ॥
সংক্ষেপে কহিনু পরিক্রমা বিবরণ ।
বিস্তারিয়া বলি এবে করহ শ্রবণ ॥
যেই জন ভ্রমে একবিংশতি যোজন ।
অচিরে লভয় সেই গৌরপ্রেম ধন ॥
জাহ্ণবা নিতাই পদ ছায়া যার আশ ।
এ ভক্তিবিনোদ করে এ তত্ত্ব প্রকাশ ॥

 


 

← Main page-এ ফিরে
← গ্রন্থাগারে ফিরে

 


শ্রীনবদ্বীপধাম
মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা


অনন্তশ্রীবিভূষিত ওঁ বিষ্ণুপাদ পরমহংসকুলচূড়ামণি বিশ্ববরেণ্য জগদ্­গুরু শ্রীশ্রীমদ্ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের পদ্মমুখের হরিকথামৃত


এইগ্রন্থশিরোমণি শ্রীগুরুপাদপদ্ম ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের ইচ্ছা পূর্ণ করবার জন্য এবং তাঁর শ্রীচরণের তৃপ্তির জন্য তাঁর অহৈতুক কৃপায় শ্রীচৈতন্য-সারস্বত মঠ হইতে প্রকাশিত হয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শুভার্বিভাব তিথিতে শ্রীগৌরাব্দ ৫৩৪, বঙ্গাব্দ ১৪২৬, খৃষ্টাব্দ মার্চ্চ ২০২০ ।


সূচীপত্র:

শ্রীগৌরধাম ও শ্রীভক্তিবিনোদ

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য
(১) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের সাধারণ মাহাত্ম্য কথন
(২) শ্রীশ্রীগৌড়মণ্ডল ও শ্রীশ্রীনবদ্বীপধামের বাহ্যস্বরূপ ও পরিমাণ
(৩) শ্রীশ্রীনবদ্বীপধাম পরিক্রমার সাধারণ বিধি
(৪) শ্রীজীবের আগমন ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু তাঁহাকে শ্রীনবদ্বীপতত্ত্ব বলেন
(৫) শ্রীমায়াপুর ও শ্রীঅন্তর্দ্বীপের কথা
(৬) শ্রীগঙ্গানগর, শ্রীপৃথুকুণ্ড, শ্রীসীমন্তদ্বীপ, শ্রীবিশ্রামস্থানাদি দর্শন

শ্রীনবদ্বীপধাম মাহাত্ম্য-মুক্তা-মালা
শ্রীনৃসিংহপল্লী
শ্রীকোলদ্বীপ


বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥