![]() |
|||||||
| |||||||
|
|||||||
|
শ্রীউপদেশ (১৪) চকচক করলেই সোনা হয় না
বৃহৎ স্বার্থ পেতে হলে, ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে হয় । বর্ধমান জেলায় মানকর নামে একটা গ্রাম ছিল । সে মানকরে একজন ব্রাহ্মণ ছিল, তার নাম জীবন চক্রবর্ত্তী । সে জীবন চক্রবর্ত্তী শিবের পূজা করত । তার পূজায় সন্তুষ্ট হয়ে শিব ঠাকুর এক রাত্রে তার কাছে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “জীবন, তুমি কী চাও ?” জীবন বলল, “ঠাকুর, আমার বড়িতে মেয়ে বড় হয়েছে কিন্তু আমি ওকে বিয়ে দিতে পারছি না, তাই কিছু ধন (টাকাপয়সা) চাই…” শিব ঠাকুর বললেন, “আমি কোথায় ধন পাব ? ধন পেতে হলে তোমাকে বৃন্দাবনে যেতে হবে ।” “বৃন্দাবন ? ঠিক আছে, যাব । কার কাছে যেতে হবে ?” “সনাতন গোস্বামীর কাছে যাও । তিনি তোমাকে সব দিতে পারেন ।” তখন বৃন্দাবনে ঢুকে জীবন চক্রবর্ত্তী রাস্তায় এক লোককে জিজ্ঞেস করল, “সনাতন গোস্বামী কোথায় থাকেন ?” লোকটা বলল, “ওই দ্বাদশাদিত্য-টিলায় মদনমোহনের মন্দির আছে । ওখানেই থাকেন সনাতন গোস্বামী ।” ওখানে গিয়ে জীবন রাস্তায় দেখতে পেল এক গরিব ব্রাহ্মণ বসে বসে হরিনাম করছিলেন । তাঁর কাছে গিয়ে জীবন জিজ্ঞেস করল, “সনাতন গোস্বামী কোথায় থাকেন ?” ব্রাহ্মণটা বললেন, “আমি এটা ।” “আপনি ?” “কেন ? বিশ্বাস হচ্ছে না ?” “না, না, মানে…” “তোমাকে কে পাঠিয়েছে ?” “শিব ঠাকুর ।” “শিব ঠাকুর তোমাকে কী জন্য আমার কাছে পাঠিয়েছেন ?” জীবন বলল, “ধনের জন্য…” “আমি কোথায় ধন পাব ?” “হ্যাঁ, আমার তাই মনে হচ্ছে । আমার বাড়িতে একটা রূপের ও কিছু পিতলের হাড়ি-কড়াই আছে, কিন্তু আপনার তাও নাই । আপনার মাটির একটা বাসন, মাটির একটা হাড়ি আছে । আমি চলে যাচ্ছি… হয়তো ভুল হয়েছে ।” জীবন যখন চলে গেল তখনই সনাতন গোস্বামী ফট্ করে তাকে ডাকলেন, “শুন, শুন ! মনে পড়েছে ! আমি এক দিন যমুনায় স্নান করতে গিয়ে পেয়েছিলাম একটস পরশমণি । তাকে আমি যমুনার পাড়ে বালির মধ্যে রেখে দিয়েছি । ওখানে গেলে খুঁজে পাওয়া যাবে ।” তখন যমুনায় গিয়ে জীবন পরশমণিটা খুঁজতে লাগল কন্তু কিছু পেল না । ফিরে এসে সনাতন গোস্বামীকে বলল, “আমি কিছু খুঁজে পাচ্ছি না ।” সনাতন বললেন, “দেখছি… দেখো ! ওখানে খুঁজো তো !” শেষে জীবন ওই পরশমণিটা বালির মধ্যে পেল । তার হাতে একটা লোহার তাবিজ ছিল—পরশমণি দিয়ে সেই লোহার তাবিজটা সোনা হয়ে গেল । জীবন সুখী হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে লাগল কিন্তু একটু পরে হঠাৎ মনে মনে ভাবল, “ওই সাধু এত দামি জিনিস পেয়ে কেন তাকে যমুনার পাড়ে ফেলে দিলেন ? সাধুটা নিশ্চয় বড় কিছু পেয়েছেন… ক্ষুদ্র জিনিস পেলে সবাই সেটা তুচ্ছ করে, আর বড় জিনিস পেলে সবাই সেটা কাছে রাখে । নিশ্চয় তিনি বড় কিছু পেয়েছেন !” তখন জীবন আবার সনাতন গোস্বামীর কাছে এল । তাকে দেখে সনাতন গোস্বামী অবাক হয়ে বললেন, “আরে, তুমি ? কেন এসেছ ? তুমি এত দামি জিনিস পেয়েছ—তাকে নিয়ে বাড়ি যাও । তোমার সব সোনার হয়ে যাবে, মেয়ের বিয়ে দেবে, বাড়ি-ঘর, টাকাপয়সা, ধন-দৌলত—সব হয়ে যাবে । যাও !” “না, প্রভু, আমার একটা প্রশ্ন জেগেছে…” “কী প্রশ্ন ?” “কী ধনে হয়েছ ধনী, মণিরে না মানে মণি, সেই ধনের একটা খানিক মাগি নতশিরে আপনার শ্রীচরণে । আপনি কী ধনে ধনী হয়েছেন ? সেই ধনটা আমি চাই ।” “সেই ধন আমি দিতে পারি কিন্তু তুমি নেবে, জীবন ?” “হ্যাঁ, প্রভু, নেব ।” “তবে তোমার পরশমণিটা ফেলে দাও আর হাত পাতো ।” পরশমণি ফেলে দিয়ে জীবন হাত পাতল আর সনাতন গোস্বামী তার হাতে একটা জপ-মালা দিয়ে দিলেন ও বললেন, “এখন বৃন্দাবনে থাকো ।” ওদিকে তার মেয়ের ভালো জায়গায় বিয়ে হয়েছে, ভালো ঘর-বাড়ি হয়েছে আর জীবন চক্রবর্ত্তী বৃন্দাবনে থাকল । কে সব করেন ? ভগবান্ সব করেন । মালিক হচ্ছেন ভগবান্ । ভগবান্ বলেন, “যদি তুমি আমার চিন্তা করবে, তাহলে আমি তোমার চিন্তা করব ।” এইজন্য, ভগবানের চিন্তা সবসময় করবেন, তাহলে দেখবেন যে, ভগবানকে লাভ করতে পারেন ।
— • • • —
|
সূচীপত্র: সূচনা : আমাদের একমাত্র কৃত্য ১। ভক্তির অভাব ২। গৃহে আবদ্ধ ৩। মায়ের পেট থেকে মায়ার পেটের মধ্যে ৪। জীবকে সত্য দয়া কি ? ৫। ভোগী নই ত্যাগীও নই ৬। শ্রবণ-কীর্ত্তনে মতি ৭। ভগবানের কৃপা ও আপনার চেষ্টা ৮। ভগবানের চরণে পথ ৯। শান্তির গুপ্ত কথা ১০। শ্রীবামনদেবের কথা ১১। শ্রীনৃসিংহদেবের কথা ১২। পূজনীয় বিসর্জন ১৩। ভক্ত ও নাপিত ১৪। চকচক করলেই সোনা হয় না ১৫। আমি তো সব ব্যবস্থা করি নাকি ? ১৬। দণ্ড মহৎসব ১৭। শিবজী মহারাজ : পরম বৈষ্ণব ১৮। মায়ার চিন্তা বা কৃষ্ণের চিন্তা ? ১৯। আমাদের একমাত্র উপায় ২০। পবিত্র জীবন ২১। শ্রীহরিনাম দীক্ষা : গুরুপাদপদ্মের দান ২২। আমার শোচন |
||||||
| বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥ | |||||||
|
© Sri Chaitanya Saraswat Math, Nabadwip, West Bengal, India. For any enquiries please visit our contact page. { ফোনে আপডেট পেতে WhatsApp গ্রুপে যোগ দিন } |
|||||||