শ্রীমদ্রূপগোস্বামি-প্রভুর শোচক

 

ও মোর জীবন-গতি,শ্রীরূপ গোঁসাই অতি,
গুণের সমুদ্র দয়াময় ।
যাঁহার করুণা হৈলে,চৈতন্য চরণ মিলে,
ব্রজে রাধাকৃষ্ণ-প্রাপ্তি হয় ॥
 
পরম বৈরাগ্য যাঁর,চরিত্রের নাহি পার,
অসীম ঐশ্বর্য্য পরিহরি' ।
চৈতন্যের আগমন,শুনি হরষিত মন,
প্রয়াগে চলিলা ত্বরা করি' ॥
 
অনুজ বল্লভ-সনে,শীঘ্র গেলা সেই স্থানে,
মহাপ্রভু যথায় বসিয়া ।
চৈতন্যের শ্রীচরণ,দর্শনে আনন্দ মন,
ভূমে দোঁহে পড়ে লোটাইয়া ॥
 
পুনঃ পুনঃ দুইজনে,নিরখিয়া প্রভু-পানে,
প্রেম-জলে ভরিল নয়ন ।
দন্তে তৃণ গুচ্ছ ধরে,বিধি-মতে স্তব করে,
শুনিলে ব্যাকুল হয় মন ॥
 
শ্রীরূপেরে নিরখিয়েপ্রভু প্রেমে মত্ত হ'য়ে,
প্রিয়বাক্য অনেক কহিলা ।
অজ, ভব, দেবগণ,আরাধয়ে যে চরণ,
সে চরণ মস্তকে ধরিলা ॥
 
প্রেমে বশ গৌররায়,উঠ উঠ বলি' তায়,
মহাসুখে কৈল আলিঙ্গন ।
শ্রীরূপ জুড়িয়ে কর,স্তুতি করে বহুতর,
তাহা কিছু না হয় বর্ণন ॥
 
তবে প্রভু রূপে লৈয়ে,নিকটেতে বসাইয়ে,
সনাতনের পুছে সমাচার ।
শ্রীরূপ কহিল সব,শুনিয়া চৈতন্যদেব
কহে কিছু চিন্তা নাহি আর ॥
 
শ্রীরূপে প্রসন্ন হৈয়া,কিছুদিন কাছে থুয়া,
রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব জানাইলা ।
পরম আনন্দ মন,রূপে করি' আলিঙ্গন,
বৃন্দাবন যাইতে আজ্ঞা দিলা ॥
 
কাতরে শ্রীরূপ কয়,সঙ্গে থাকি আজ্ঞা হয়,
শুনি প্রভু মহাহর্ষ-চিত্তে ।
কহেন মধুর বাণীসদা সঙ্গে আছ তুমি,
পুনশ্চ আসিবে ব্রজ হৈতে ॥
 
এই মত কহে যত,তবে প্রভু শচীসুত,
কাশী চলে নৌকায় চড়িয়া ।
প্রভুর শ্রীচন্দ্রমুখ,নয়নে হেরিয়ে রূপ,
ভূমে পড়ে মূর্ছিত হইয়া ॥
 
সে সময়ে ভেল যাহা,কহিতে না পারি তাহা,
কতক্ষণে কিছু সম্বরিলা ।
মহাপ্রভুর শ্রীচরণ,তাহে সমর্পিয়া মন,
বৃন্দাবন গমন করিলা ॥
 
অত্যন্ত আনন্দ চিতে,শীঘ্র আইল মথুরাতে,
সুবুদ্ধি-রায়ের দেখা পাইলা ।
রায় আনন্দিত হৈয়া,দুইজনে সঙ্গে লৈয়া
দ্বাদশ কানন দেখাইলা ॥
 
বিস্তারিতে নারি আর,গমনাগমন তাঁর,
কতদিন পরে বৃন্দাবনে ।
শ্রীরূপ শ্রীসনাতন,হৈল দোঁহে সুমিলন,
দোঁহে প্রেমে আপ্ত নাহি জানে ॥
 
আলিঙ্গন করি দোঁহে,চৈতন্যের গুণ কহে,
যাহা শুনি' পাষাণ মিলায় ।
আনন্দ হইল চিত্তে,নাহি পারে সস্বরিতে,
কাঁদি দোঁহে ধরণী লোটায় ॥
 
অতি অনুরাগ মনে,শ্রীরূপ শ্রীবৃন্দাবনে,
রহে সদা প্রেমের উল্লাসে ।
ফল-মূল মাধুকরী,বিপ্রগৃহে ভিক্ষা করি,
ভুঞ্জে কভু থাকে উপবাসে ॥
 
ছিঁড়া কাঁথা বহির্বাস,এইমাত্র বহে পাশ,
তরুতলে করেন শয়ন ।
দিবানিশি অবিশ্রাম,জপয়ে মধুর নাম,
ভাব-ভরে করয়ে নর্তন ॥
 
ক্ষণে করে সংকীর্ত্তন,অন্তর্মনা অনুক্ষণ,
কি কব ভজনরীতি তাঁর ।
প্রভুর আজ্ঞায় কত,বর্ণিল অমৃত-গ্রন্থ,
প্রেম-সম অক্ষর যাঁহার ॥
 
মহাধীর অত্যুদার,কে বুঝে হৃদয় তাঁর,
কভু যমুনার তটে যাঞা ।
'হা শচীনন্দন' বলি'কাঁদয়ে দুহাত তুলি,
ডাকে রাধাকৃষ্ণনাম লঞা ॥
 
আতি সুকোমল দেহ,সদা প্রেমে নাচে সেহ,
আর কি বলিল এক মুখে ।
অধম পামরগণ,পতিত দুঃখিত জন,
নিজগুণে কৃপা করেন তাকে ॥
 
নরহরি দুরাচার,কর মোরে অঙ্গীকার,
তাপেতে হইল সদা ভোর ।
তুয়া পাদ-পদ্মে মন,রহে যেন সর্ব্বক্ষণ,
এই নিবেদন শুন মোর ॥
 

 


 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

 

ডাউনলোড (5.6 Mb)


 

সূচীপত্র:
আমার জীবন সদা
অক্রোধ পরমানন্দ
ভয়ভঞ্জন-জয়শংসন
বজহুঁরে মন
ভজ রে ভজ রে আমার
ভুলিয়া তোমারে
বিমল হেমজিনি
দশাবতারস্তোত্রম্
ধন মোর নিত্যানন্দ
দুর্লভ মানব জন্ম
এইবার করুণা কর
এমন দুর্ম্মতি
গায় গোরা মধুর স্বরে
গোপীনাথ মম নিবেদন শুন
গুরুদেব! কৃপাবিন্দু দিয়া
শ্রীমদ্ভক্তিবিনোদবিরহদশকম্ (হা হা ভক্তিবিনোদঠক্কুর)
হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ
হরি হে দয়াল মোর
হে দেব ভবন্তং বন্দে
জনম সফল তা'র
জয় গুরু-মহারাজ (শ্রীগুরু আরতি-স্তুতি)
জয় গুরু মহারাজ করুণাসাগর (শ্রীশ্রীনিতাই-চৈতন্য-আরতি)
জয় জয় গুরুদেবের (শ্রীগুরু-আরতি)
জয় জয় গোরাচাঁদের (গৌর-আরতি)
জয় রাধামাধব
জয় রাধে, জয় কৃষ্ণ
জয়রে জয়রে জয় পরমহংস
কবে হবে বল সে দিন আমার
কবে শ্রীচৈতন্য মোরে
কে যাবি কে যাবি
কি জানি কি বলে
কিরূপে পাইব সেবা
মানস দেহ গেহ
নমো নমঃ তুলসী মহারাণি
নিতাই আমার দয়ার অবধি
নিতাই গুণমণি আমার
মানস দেহ গেহ
ময়ূর-মুকুট
পরম করুণ
রাধা ভজনে যদি
করাধাকুণ্ডতট
রাধে রাধে গোবিন্দ
রাধিকা চরণ পদ্ম
সংসার-দাবানল (শ্রীগুর্ব্বষ্টকম্)
শ্রীগুরুচরণ-পদ্ম
শ্রীগুরুপরম্পরা
শ্রীহরি-বাসরে হরি
শ্রীল-রঘুনাথদাস-গোস্বামি-শোচক
শ্রীমদ্রূপগোস্বামি-প্রভুর শোচক
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু জীবে
শ্রীরূপমঞ্জরী-পদ
শ্রীশ্রীষড়্­গোস্বাম্যষ্টকম্
শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্
শ্রীশ্রীমদ্­গৌরকিশোরনমস্কারদশকম্
শুদ্ধ ভকত-চরণ-রেণু
সুজনার্ব্বুদরাধিতপাদযুগং
শুনহে রসিক জন
ঠাকুর বৈষ্ণবগণ
বৈষ্ণব কে ?
বৈষ্ণব ঠাকুর দয়ার
বন্দনা
যদি, গৌর না হ'ত
যশোদা-নন্দন কৃষ্ণ
যশোমতীনন্দন
যে আনিল প্রেমধন (বিরহ-গীতি)

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥