বৈষ্ণব কে ?

(প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী ঠাকুর রচিত)

 

দুষ্ট মন ! তুমি কিসের বৈষ্ণব ?
প্রতিষ্ঠার তরেনির্জ্জনের ঘরে
তব হরিনাম কেবল কৈতব ॥১॥
 
জড়ের প্রতিষ্ঠাশূকরের বিষ্ঠা
জান না কি তাহা মায়ার বৈভব ?
কনক-কামিনীদিবস-যামিনী
ভারিয়া কি কাজ, অনিত্য সে সব ॥২॥
 
তোমার কনকভোগের জনক
কনকের দ্বারে সেবহ মাধব ।
কামিনীর কামনহে তব ধাম
তাহার মালিক কেবল যাদব ॥৩॥
 
প্রতিষ্ঠাশা-তরুজড়মায়ামরু
না পেল রাবণ যুঝিয়া রাঘব ।
বৈষ্ণবী প্রতিষ্ঠাতাতে কর নিষ্ঠা
তাহা না ভজিলে লভিবে রৌরব ॥৪॥
 
হরিজনদ্বেষপ্রতিষ্ঠাশাক্লেশ
কর কেন তবে তাহার গৌরব ।
বৈষ্ণবের পাছেপ্রতিষ্ঠাশা আছে
তাত কভু নহে অনিত্য বৈভব ॥৫॥
 
সে হরিসম্বন্ধশূন্য-মায়াগন্ধ
তাহা কভু নয় জড়ের কৈতব ।
প্রতিষ্ঠা-চণ্ডালীনির্জ্জনতা-জালি
উভয়ে জানিহ মায়িক রৌরব ॥৬॥
 
কীর্ত্তন ছাড়িবপ্রতিষ্ঠা মাগিব
কি কাজ ঢুঁড়িয়া তাদৃশ গৌরব ।
মাধবেন্দ্রপুরীভাব-ঘরে চুরি
না করিল কভু সদাই জানব ॥৭॥
 
তোমার প্রতিষ্ঠাশূকরের বিষ্ঠা
তার-সহ সম কভু না মানব ।
মৎসরতা-বশেতুমি জড়রসে
ম' জেছ ছাড়িয়া কীর্ত্তনসৌষ্ঠব ॥৮॥
 
তাই দুষ্ট মননির্জ্জন ভজন
প্রচারিছ ছলে কুযোগী-বৈভব ।
প্রভু সনাতনেপরম যতনে
শিক্ষা দিল যাহা, চিন্ত' সেই সব ॥৯॥
 
সেই দুটি কথাভুল' না সর্ব্বথা
উচ্চৈঃস্বরে কর হরিনাম-রব ।
ফল্গু, আর যুক্ত,বদ্ধ আর মুক্ত
কভু না ভাবিহ 'একাকার' সব ॥১০॥
 
কনক-কামিনীপ্রতিষ্ঠা-বাঘিনী
ছাড়িয়াছে যারে, সেই ত বৈষ্ণব ।
সেই অনাসক্তসেই শুদ্ধ ভক্ত
সংসার তথা পায় পরাভব ॥১১॥
 
যথাযোগ্য ভোগনাহি তথা রোগ
অনাসক্ত সেই, কি আর কহব ।
আসক্তিরহিতসম্বন্ধসহিত
বিষয়সমূহ সকলি মাধব ॥১২॥
 
সে যুক্ত-বৈরাগ্যতাহা ত সৌভাগ্য
তাহাই জড়েতে হরির বৈভব ।
কীর্ত্তনে যাহারপ্রতিষ্ঠাসম্ভার
তাহার সম্পত্তি কেবল কৈতব ॥১৩॥
 
বিষয়-মুমুক্ষভোগের বুভুক্ষু
দু'য়ে ত্যজ মন, দুই অবৈষ্ণব ।
কৃষ্ণের সম্বন্ধঅপ্রাকৃত স্কন্ধ
কভু নহে তাহা জড়ের সম্ভব ॥১৪॥
 
মায়াবাদী জনকৃষ্ণেতর মন
মুক্ত অভিমানে সে নিন্দে বৈষ্ণব ।
বৈষ্ণবের দাসতব ভক্তি আশ
কেন বা ডাকিছ নির্জ্জন আহব ॥১৫॥
 
যে ফল্গু-বৈরাগীকহে নিজে ত্যাগী
সে না পারে কভু হইতে বৈষ্ণব ।
হরিপদ ছাড়ি'নির্জ্জনতা বাড়ি
লভিয়া কি ফল, ফল্গু সে বৈভব ॥১৬॥
 
রাধা-দাস্যে রহিছাড় ভোগ-অহি
প্রতিষ্ঠাশা নহে কীর্ত্তনগৌরব ।
রাধা-নিত্যজনতাহা ছাড়ি মন
কেন বা নির্জ্জন-ভজনকৈতব ॥১৭॥
 
ব্রজবাসিগণপ্রচারক ধন
প্রতিষ্ঠা-ভিক্ষুক তারা নহে শব ।
প্রাণ আছে তারসে হেতু প্রচার
প্রতিষ্ঠাশাহীন-কৃষ্ণগাথা সব ॥১৮॥
 
শ্রীদয়িতদাসকীর্ত্তনেতে আশ
কর উচ্চৈঃস্বরে হরিনাম রব ।
কীর্ত্তন-প্রভাবেস্মরণ হইবে
সে কালে ভজন নির্জ্জন সম্ভব ॥১৯॥
 

 


 

← গ্রন্থাগারে ফিরে

শ্রীল ভক্তিনির্ম্মল আচার্য্য মহারাজ:
ডাউনলোড (1.1 Mb)

 


 

সূচীপত্র:
আমার জীবন সদা
অক্রোধ পরমানন্দ
ভয়ভঞ্জন-জয়শংসন
বজহুঁরে মন
ভজ রে ভজ রে আমার
ভুলিয়া তোমারে
বিমল হেমজিনি
দশাবতারস্তোত্রম্
ধন মোর নিত্যানন্দ
দুর্লভ মানব জন্ম
এইবার করুণা কর
এ ঘোর সংসারে
এমন দুর্ম্মতি
গায় গোরা মধুর স্বরে
গোপীনাথ মম নিবেদন শুন
গুরুদেব! কৃপাবিন্দু দিয়া
শ্রীমদ্ভক্তিবিনোদবিরহদশকম্ (হা হা ভক্তিবিনোদঠক্কুর)
হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ
হরি হে দয়াল মোর
হে দেব ভবন্তং বন্দে
জনম সফল তা'র
জয় গুরু-মহারাজ (শ্রীগুরু আরতি-স্তুতি)
জয় গুরু মহারাজ করুণাসাগর (শ্রীশ্রীনিতাই-চৈতন্য-আরতি)
জয় জয় গুরুদেব করুণাসাগর (শ্রীগুরু-শ্রীগৌর-শ্রীনিত্যানন্দ-আরতি)
জয় জয় গুরুদেবের (শ্রীগুরু-আরতি)
জয় জয় গোরাচাঁদের (গৌর-আরতি)
জয় রাধামাধব
জয় রাধে, জয় কৃষ্ণ
জয়রে জয়রে জয় পরমহংস
কবে হবে বল সে দিন আমার
কবে শ্রীচৈতন্য মোরে
কে যাবি কে যাবি
কি জানি কি বলে
কিরূপে পাইব সেবা
মানস দেহ গেহ
নমো নমঃ তুলসী মহারাণি
নিতাই আমার দয়ার অবধি
নিতাই গুণমণি আমার
মন, তুমি তীর্থে সদা রত
মানস দেহ গেহ
ময়ূর-মুকুট
পরম করুণ
রাধা ভজনে যদি
করাধাকুণ্ডতট
রাধে রাধে গোবিন্দ
রাধিকা চরণ পদ্ম
সংসার-দাবানল (শ্রীগুর্ব্বষ্টকম্)
শ্রীগৌর-মণ্ডল মাঝে
শ্রীগুরুচরণ-পদ্ম
শ্রীগুরুপরম্পরা
শ্রীহরি-বাসরে হরি
শ্রীল-রঘুনাথদাস-গোস্বামি-শোচক
শ্রীমদ্রূপগোস্বামি-প্রভুর শোচক
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু জীবে
শ্রীরূপমঞ্জরী-পদ
শ্রীশ্রীষড়্­গোস্বাম্যষ্টকম্
শ্রীশ্রীদামোদরাষ্টকম্
শ্রীশ্রীমদ্­গৌরকিশোরনমস্কারদশকম্
শুদ্ধ ভকত-চরণ-রেণু
সুজনার্ব্বুদরাধিতপাদযুগং
শুনহে রসিক জন
ঠাকুর বৈষ্ণবগণ
বৈষ্ণব কে ?
বৈষ্ণব ঠাকুর দয়ার
বন্দনা
যদি, গৌর না হ'ত
যশোদা-নন্দন কৃষ্ণ
যশোমতীনন্দন
যে আনিল প্রেমধন (বিরহ-গীতি)

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥