একনিষ্ঠা ভজন

ওঁ বিষ্ণুপাদ শ্রীল ভক্তি নির্ম্মল আচার্য্য মহারাজের হরি-কথামৃত
উলুবেড়িয়া, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৬ষ্ঠ় অংশ

 

যখন আপনারা যজ্ঞ করছেন, তখন যজ্ঞের মধ্যে ঘি দিতে হবে, তাই না ? কিন্তু আপনারা যদি এক চামচ ঘি দিচ্ছেন আবার এক চামচ জল দিচ্ছেন, আবার এক চামচ ঘি দিচ্ছেন, অবার এক চামচ জল দচ্ছেন — তখন যজ্ঞ কি হবে ? হবে না । ভজনটাও সেরকম—একনিষ্ঠা ভাবে গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবা করতে হবে । অনেকের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি, দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী, গনেশ, জগন্নাথ, কৃষ্ণ, সব এক ঘরে থাকে—ওরা ঠাকুরের মুসিয়াম সাজিয়ে রেখেছেন ! ওরা সবাইকে সন্তুষ্ট করছেন কিন্তু সবাইকে কি সন্তুষ্ট করতে সম্ভব ? ৩৩০,০০০,০০০ দেবতারকে কি সন্তুষ্ট করতে পারবে? কৃষ্ণভজন করলে সব সনন্তুষ্ট হয়ে যায় :

একলা ঈশ্বে কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য ।
যারে যৈছে নাচায়, সে তৈছে করে নৃত্য ॥

(শ্রীচৈঃ চঃ, ১/৫/১৪২)

বিশ্বাস থাকবে হবে।

'শ্রদ্ধা' শব্দে—বিস্বাস কহে সুদৃঢ় নিশ্চয় ।
কৃষ্ণে ভক্তি কৈলে সর্ব্বকর্ম্ম কৃত হয় ॥

(শ্রীচৈঃ চঃ, ২/২২/৬২)

আনেকে বলেন, “বাপ আমাকে ছেড়ে দিয়েছে চলে আসল !”, “বাবা-মাকে ছেড়ে দিয়ে চলে আসল !” কিন্তু ভগবানের সেবা করলে পিতৃ-ঋণ, মাতৃ-ঋণ, রিষি-ঋণ, দেব-ঋণ, সমস্ত ঋণ তাতে শোধ হয়ে যায় ।

শুদ্ধ ভাবে ভজন করতে হলে, অভ্যাস করতে হবে, practise করতে হবে । মন, তুমি চঞ্চল, তুমি বিভিন্ন দিকে ধাবিত হয় ! মনটাকে যদি control (দমন) করতে চাই, তাহলে আমাদের হরিভজন অভ্যাস করতে হবে । কিন্তু সেটা যদি সময়মত না করি, তাহলে বৃদ্ধা কালে হরিভজন অভ্যাস হবে না—তাহলে ভগবানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে ।

একজন প্রভুপাদকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সবাই কি আপনার শিষ্য ?” প্রভুপাদ তদুত্তরে বললেন যে, মন্ত্র-দীক্ষা নিলে শিষ্য হওয়া যায় না—যাঁরা শুধু মন্ত্র-দীক্ষা নিলেন, তাঁদেরকে শিষ্য বলা যাবে না, সেটা প্রকৃত শিষ্য নন । যে শিষ্য, তিনি গুরুদেবে অদেশ অবনত মস্তকে পালন করে হরিভজন করেন—তিনি হবেন প্রকৃত শিষ্য । “আমার ভাল-মন্দ আমি কিছু বুঝি না । গুরুদেব যেভাবে আমাকে চলাবেন, সেভাবে চলব ।”—সেই চিন্তা, সেই chastity (সতীত্ব) থাকা চাই । নিষ্ঠাও থাকতে হবে, সতীত্বও থাকতে হবে । ভগবানের সেবা ছাড়া আমাদের আর কোন গতি নাই ।

ভগবানকে কি কি করে খুশি করব ? যার মাধ্যমে তিনি খুশি হবেন, সেই গুরুর চরণে আশ্রয় গ্রহণ করে হরিভজন যদি আমরা করতে পারি, তাহল আমাদের প্রকৃত মঙ্গল-বস্তু লাভ হবে । আমরা নিজেরা সন্তুষ্ট থাকতে হবে—আমাদের সব সময় আরো বাসনা থাকে, আরো কিছু পেতে চাই, আরো কিছু চাই । কিন্তু প্রকৃত আনন্দ পেলে আর কিছু পাওয়ার দরকার হবে না—সেই হরিকে পেতে হবে, যাকে পেলে, যাকে দেখলে, যার সেবা করলে আরো কিছু করার দরকার থাকবে না । যার চিন্তা করলে, যার গুণ-কীর্ত্তন করলে আর কার গুণকীর্ত্তন করার দরকার থাকবে না । সেই হরি-গুরু-বৈষ্ণবের গুণকীর্ত্তন করে সেবা করে যদি আমরা জীবন অতিবাহিত করি, তাহলে আমাদের মঙ্গল-বস্তু লাভ হবে । নতুবা হয় না । সেই জন্য আমাদের সবাইকে গুরু-বৈষ্ণব-ভগবানের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে হবে ।

জয় শ্রীল গুরু মহারাজ কি জয় ।

 


 

 

← গ্রন্থাগারে

বৃক্ষসম ক্ষমাগুণ করবি সাধন । প্রতিহিংসা ত্যজি আন্যে করবি পালন ॥ জীবন-নির্ব্বাহে আনে উদ্বেগ না দিবে । পর-উপকারে নিজ-সুখ পাসরিবে ॥